দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার ‘শান্তিপূর্ণ প্রয়াণের’ জন্য প্রার্থনা করছে সবাই। দেশটির ৯৪ বছর বয়সী জনপ্রিয় এই নেতার জন্য সবার একটাই প্রার্থনা ম্যান্ডেলা, তুমি শান্তিতে বিদায় নাও। দেশটির প্রিটোরিয়ার হাসপাতালে তাকে দেখতে গিয়ে একই প্রার্থনা করেছেন প্রধান ধর্মযাজক। এছাড়া হাসপাতালের বাইরে তার ভক্তরা ফুল দিয়ে এবং তারবার্তা দেয়ালে লিখে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। খবর বিবিসির।
বিশ্বের বর্ণবাদ বিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার অবস্থা সংকটাপন্ন। চলতি বছরে তৃতীয়বারের মতো হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ম্যান্ডেলার জন্য সারাবিশ্বের মানুষ প্রার্থনা করেছেন। গত ৮ জুন হাসপাতালে ভর্তির পর গত রবিবার তার স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি হয়। মঙ্গলবার প্রধান ধর্মযাজক থাবো ম্যাকগোবা হাসপাতালে ম্যান্ডেলাকে দেখতে যান। এ সময় তিনি সেখানে ম্যান্ডেলার স্ত্রীর সঙ্গে প্রার্থনা করেন শান্তিপূর্ণ প্রয়াণের জন্য। এছাড়া গতকাল তার গোত্রের বয়স্কদের হাসপাতালে দেখতে যাওয়ার কথা। ম্যাকগোবা তার ফেসবুকে লিখেছেন, ম্যান্ডেলা আমাদের জাতির জন্য যতো মঙ্গলজনক কাজ করেছেন তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা সারা জীবন তাকে সম্মান করে যাবো। তিনি সমস্ত দুঃখ-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পান। আমরা কামনা করি একটি শান্তিপূর্ণ এবং সফল রাতের। ম্যান্ডেলাকে সমাহিত করার স্থান নিয়ে পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিচ্ছে বলে দেশটির গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। তবে ম্যান্ডেলার বন্ধু এবং বিরোধী দল ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (ইউডিএম) নেতা বনতু হলোমিসা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। ম্যান্ডেলার নাতনি এবং ঐতিহ্যগতভাবে তার উত্তরাধিকারী ম্যান্ডলা চান ম্যান্ডেলার জন্মস্থানে শায়িত করতে। কিন্তু তার পরিবারের অন্য সদস্যরা চান কুনুতে তার পারিবারিক সমাধিস্থলে শায়িত করতে।
চলতি মাসের প্রথমদিকে ম্যান্ডেলাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে ফুসফুসের সংক্রমণের কারণে তিনি তিন সপ্তাহ হাসপাতালে ছিলেন। তখন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পিত্তথলি থেকে পাথর অপসারণ করা হয়। ১৯৯০ সালে বর্ণবাদ বিরোধী এই নেতার কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এটাই সর্বোচ্চ সময় হাসপাতালে অবস্থান। গত কয়েক বছর ধরে ম্যান্ডেলা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের কারণে ২৭ বছর কারাগারে থাকার পর ১৯৯০ সালে মুক্তি পান এবং ১৯৯৪ সালে তিনি দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হন।
