যশোরে পৌনে ৩শ’ বছরের পুরনো মন্দির ভবন ধসে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাত ১০টার দিকে চাঁচড়া বাজার সংলগ্ন শ্রী শ্রী দশ মহাবিদ্যা মন্দিরের ছাদ ও দেয়াল আকস্মিকভাবে ধসে পড়লে সেখানে গোলপাতার ঘরে বসবাসকারী দুই ভাই নিরোদ কুমার ঘোষ (৭০) ও শিবপদ ঘোষ (৬০) ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মারা যান। এ সময় ওই এলাকায় হূদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৭২৯ সালে ধসে পড়া মন্দিরটি চাঁচড়ার রাজা বরদাকান্ত নির্মাণ করেন। মন্দিরটির তিনটি ভবন। এর মধ্যে দুটি পরিত্যক্ত। পরিত্যক্ত উত্তরপাশের মন্দিরটি দীর্ঘদিন ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। এর মধ্যেই চলতো পূজা অর্চনা। আর মন্দিরের উত্তরপাশে গোলপাতার ছোট ছোট খুপড়ি ঘরে গড়ে ওঠে বসতি। বুধবার রাত ১০টার দিকে মন্দির ভবনের একপাশের দেয়াল ভেঙ্গে পড়লে দুজন এর নিচে চাপা পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত চাপা পড়া শিবপদকে উদ্ধার করে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু তার আগেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে যশোর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি দল এবং কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। ফায়ার সার্ভিস টিম চাপা পড়া দেয়াল সরিয়ে নিরোদ ঘোষের লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা বাইরে থাকায় তারা প্রাণে বেঁচে যান।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকা মন্দিরটি ভেঙে ফেলার জন্য মন্দির কমিটিকে বার বার জানালেও তারা কর্ণপাত করেনি। তবে মন্দির কমিটির সভাপতি সত্যজিত্ বর্মণ জানান, অর্থাভাবে মন্দিরটি ভেঙে ফেলা সম্ভব হয়নি। এছাড়া রাজা বরদাকান্তের নির্মিত মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ হওয়ায় এর ঐতিহ্য বিবেচনায়ও এটি ভাঙা হয়নি।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের যশোর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক দীপংকর দাস রতন বৃহস্পতিবার জানান, তাদের সহযোগিতা নিয়ে প্রশাসন মন্দিরের পরিত্যক্ত ভবন ভেঙ্গে ফেলছে। খুব দ্রুত মন্দিরের সীমানা নির্ধারণ করে ঐত্যিহের স্মারক হিসাবে শৈল্পিক একটি মন্দির এখানে নির্মাণ করা হবে।
