গ্রামীণ ব্যাংককে অবশ্যই একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামোতে আনা হবে :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৩, ২২:৫২
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, গ্রামীণ ব্যাংককে অবশ্যই একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা হবে। শুরু থেকেই গ্রামীণ ব্যাংকের কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা (রেগুলেটরি বডি) নেই। তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে নয়, আবার মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) অধীনেও নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা এমআরএ-এর অধীনে গ্রামীণ ব্যাংককে তার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। সচিবালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার গ্রামীণ ব্যাংক প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য গঠিত কমিশনের বিষয়ে তিনি বলেন, কমিশনকে আমি ডাকি নাই, তারাই আমার কাছে পরামর্শের জন্য এসেছিল; কিন্তু আমি তাদের বলেছি, সরকারের লোক হিসেবে আমি তো কোনো পরামর্শ দিতে পারি না—আমি শুধু সিদ্ধান্ত নেব। কমিশনের জন্য যে ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ তৈরি করে দেয়া হয়েছে সেটাই তাদের কাজ করার জন্য যথেষ্ট। গ্রামীণ ব্যাংক পুনর্গঠনে আগামী ২ জুলাই আয়োজিত সেমিনারের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি তাদের বলেছি, তোমরা বৈঠক করতে চাও—করো, সেটা তোমাদের বিষয়। তাদের সেই বৈঠকে ড. ইউনূস সাহেবকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং সেখানে এটাও বলা হয়েছে যে, এটা কমিশনের প্রস্তাব; কিন্তু এটা নিয়ে ড. ইউনূসের সংবাদ সম্মেলন করার কোনো প্রয়োজন ছিল না; কিন্তু তিনি আসলে রাজনীতিবিদ। তাই তিনি এসব করছেন। কমিশন গ্রামীণ ব্যাংকের ৫১ শতাংশ শেয়ার সরকারের কাছে হস্তান্তরের সুপারিশ করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা এটা সরকারকে দিতে বলছে না, তারা এটা বলতে পারে না। গ্রামীণ টেলিকম প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ড. ইউনূস এটা গড়ে তোলেন। চুক্তি ছিল গ্রামীণ টেলিকমের ৫১ শতাংশ শেয়ারে জাতীয় অংশগ্রহণ (ন্যাশনাল পার্টিসিপেশন) থাকবে। বাকী ৪৯ শতাংশ অন্যদের; কিন্তু গ্রামীণ টেলিকম তাদের শেয়ার নেয়নি। সেটা নিয়েছে টেলিনর; কিন্তু এখন তো এই শেয়ারের ৫১ শতাংশ পাওয়া যাবে না। কারণ এর ১০ শতাংশ শেয়ার তারা শেয়ার বাজারে ছেড়ে দিয়েছে। এখন গ্রামীণফোনের কত শতাংশ শেয়ার সরকার পাবে সেটা নির্ধারণ করবে কমিশন। কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে। তিনি আরো বলেন, গ্রামীণফোন যে শেয়ারটি ক্রয় করেছে সেটা বাংলাদেশি কোম্পানির শেয়ার। যদিও গ্রামীণফোন দাবি করছে যে, তারা নিয়ম-কানুন মেনেই এ শেয়ার ক্রয় করেছে; কিন্তু এখন এই শেয়ারগুলো কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায় সেই উপায় কমিশন খুঁজছে।