গ্রামীণ ব্যাংকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে দলটি জানিয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংকের ৮৪ লাখ গ্রাহকের পাশে থাকবে তারা। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গ্রামীণ ব্যাংককে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজধানীর ইউনূস সেন্টারে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে পরে দলের নয়াপল্টনের অফিসে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন। গ্রামীণ ব্যাংককে হস্তক্ষেপ না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দাম্ভিকতা ও একগুয়েমির পথ ছেড়ে গ্রামীণ ব্যাংককে তাদের মতো চলতে দিন।
সাক্ষাত্ প্রসঙ্গে ইউনূস সেন্টার থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাস্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদকে ভূষিত হওয়ায় বিএনপির পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন মির্জা ফখরুল ও সাবিহ উদ্দিন আহমেদ। ড. ইউনূসও তাঁদের ধন্যবাদ জানান।
সাক্ষাত্ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাস্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক মার্কিন কংগ্রেশনাল অ্যাওয়ার্ড পাওয়ায় এর আগে ড. ইউনূসকে অভিনন্দনপত্র দিয়ে সম্মাননা জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এবার দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হলো।
মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, এই সাক্ষাতে রাজনৈতিক কোনো আলোচনা হয়নি। কারণ, তিনি রাজনীতি করেন না।
‘পদ্মা সেতুর টেন্ডার পাগলের প্রলাপ’
এদিকে বিএনপির অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পদ্মা সেতুর টেন্ডার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেছেন, সরকারের একগুয়েমির কারণে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে ফিরে আসেনি। এখন আবার নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এগুলো পাগলের প্রলাপ ছাড়া কিছু নয়। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক, জাইকা, এডিবি এই প্রকল্পে না থাকলে ভালো নির্মাতা পাওয়া যাবে না। এই সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হবে না।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করে জাতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এতে সংঘাত আরো বাড়বে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে।
