সুন্দরবনে এবার মহিলা বনদস্যু

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৩, ২২:৫২
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে এবার মহিলা বনদস্যু দলের উত্পাত বেড়েছে। পশ্চিম সুন্দরবনের কৈখালী স্টেশনের আওতায় মাথাভাঙ্গা, চুনকুড়ি ও মাহমুদা নদী সংলগ্ন কাঁকড়াখালী, নুচোখালী, মাইটভাঙ্গা, বয়ারশিং এলাকায় গত কিছুদিন ধরে এই মহিলা বনদস্যু দলটি বিচরণ করছে বলে বনজীবীরা জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে কয়েকজন বনজীবীকে এই দলটি জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে এবং এই এলাকার তথ্য সংগ্রহ করে ছেড়ে দিয়েছে। উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চল কালিঞ্চি, টেংরাখালী, কৈখালী, জয়াখালী এলাকার বনজীবী মুনসুর, আফছার, ট্রলার মালিক ছামাদ ও আব্দুল্যাহ জানান, গত ২৪ ও ২৬ জুন সুন্দরবনের নুচোখালী ও কাকড়াখালীতে এই দলটিকে দেখা যায়। ২৬ জুন সকালে মাইটভাঙ্গা খালের মুখে অবস্থান করা অবস্থায় ট্রলার মালিক আব্দুল্যাহকে ট্রলার থামাতে বললে তিনি ট্রলার না থামিয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। এ সময় মহিলা বনদস্যুরা তার ট্রলার লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড বন্দুকের গুলি ছোঁড়ে। এছাড়া গত ২৪ জুন বয়ারশিং নামক স্থানে কালিঞ্চি গ্রামের আব্দুস সামাদের ট্রলার লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড বন্দুকের গুলি ছোঁড়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুন্দরবনে চিংড়ি পোনা আহরণকারী জনৈক জেলে (যাকে দস্যু দল ১২ ঘণ্টা জিম্মি করে) জানান, এই দলে মোট ১৪ জন সদস্য আছে। এর মধ্যে একজন মাত্র পুরুষ যার বয়স আনুমানিক ৪৫-৪৬ এবং বাকি সকলেই মহিলা, এদের সকলের বয়স ২৫ থেকে ৪০ এর মধ্যে। এদের কাছে বন্দুক, রাইফেল, পাইপগান, সব মিলিয়ে ১৩টি অস্ত্র আছে। দস্যু বাহিনীরা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিন চালিত ফিশিং ট্রলার ব্যবহার করছে। তিনি আরো জানান, এই বাহিনী প্রধানের নাম কহিনুর। এছাড়া মলি, পাপিয়া, রাণী, ফুলন নামে তাদেরকে ডাকতে শুনেছেন। সকল মহিলা দস্যুকে থ্রি কোয়াটার প্যান্ট ও গোল গলা রঙ্গিন গেঞ্জি পরা অবস্থায় দেখা গেছে। জানা যায়, পূর্ব সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জে কিছুদিন পূর্বে র্যাব ও কোস্ট গার্ডের অভিযান চালালে ওই রেঞ্জের বনদস্যুরা পশ্চিম সুন্দরবনে সাতক্ষীরা রেঞ্জে অবস্থান নেয়। বনজীবীরা ধারণা করছেন, এরা সেই কারণে এই এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে।