গল্প নয় সত্যি

মারাত্মক ভুল!

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৩, ১৯:২৭
নিউজিল্যান্ডের ডুনেডিন। সময় প্রায় মধ্যরাত। পুরো শহর যখন প্রায় ঘুমিয়ে ঠিক তখনই বেজে উঠল স্থানীয় একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ফোন। অপর প্রান্ত থেকে কেউ একজন খুব অস্পষ্ট আর জড়ানো ভাষায় সাহায্য চাইলেন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের। শুনে মনে হয়, যেন শক্ত করে মুখ বেঁধে রাখা কোনো নারী তাকে উদ্ধারের জন্য সাহায্য চাইছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে। ডুনেডিনের এই হাসপাতালটির জন্য দিনে-রাতে নানা জরুরি ফোন পাওয়ার ঘটনা মোটেও নতুন কিছু নয়। কিন্তু এ ধরনের রহস্যময় ফোন তো তাই বলে রোজ আসে না। তাই খানিকটা দ্বিধাদ্বন্দেই পড়ে গেলেন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের অপারেটর। ঘটনার ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে আটকে থাকা কোনো নারীকে উদ্ধারের জন্য মামুলি কয়েকজন মেডিকেল স্টাফ পাঠানোটা কাজে আসবে না বলেই তিনি সাথে সাথে বিষয়টি জানালেন স্থানীয় পুলিশকে। কালমাত্র বিলম্ব না করে পুলিশও রাতের নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করে ছুটলো অজ্ঞাতনামা ওই মহিলাকে উদ্ধারে। তবে ঘটনাস্থলে আসার পর পুলিশ আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সব অনুমানকে মিথ্যা প্রমাণ করে মুক্ত অবস্থাতেই বেরিয়ে এলেন ঐ নারী। আর এখানেই ঘটনার অনুসন্ধান করতে যেয়ে বেরিয়ে এলো নতুন তথ্য। পুলিশ জানায়, নাম প্রকাশ না করা ওই মহিলা তার একটি অসুখের কারণে প্রায়ই ঠোঁটে এক ধরনের ওষুধ লাগাতেন। সেদিন রাতেও যেমনটা চাইছিলেন তিনি। তবে অন্ধকার ঘরে ওষুধের টিউব ভেবে তিনি যা হাতে নিয়েছিলেন সেটি আদতেও কোনো ওষুধের টিউব ছিল না। বরং ওষুধ ভেবে রাতের অন্ধকারে তিনি দুই ঠোঁটে যা লাগিয়েছিলেন সেটি আসলে ছিল সুপারগ্লু’র (এক ধরনের শক্তিশালী আঠা) টিউব। ফলে খুব দ্রুতই দুই ঠোঁট একসাথে যুক্ত হয়ে যায় ওই নারীর। আর এ অবস্থাতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসে চিকিত্সা সহায়তার জন্য ফোন করেছিলেন তিনি। কিন্তু যুক্ত ঠোঁটের জড়ানো কথাই শেষ পর্যন্ত মেডিকেল সহায়তার পরিবর্তে তার বাড়িতে টেনে আনে পুলিশের সদস্যদের। আর শেষ পর্যন্ত তাদের সহায়তাতেই নিজের ভুলের শিকার ওই নারীকে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হয় ডুনেডিনের একটি হাসপাতালে।