প্রোস্টেট ক্যান্সার

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৩, ১৯:৩৩
প্রোস্টেট ক্যান্সার হচ্ছে পুরুষের প্রোস্টেট গ্রন্থির ক্যান্সার। প্রোস্টেট গ্রন্থিটি যা মূত্রাশয়ের ঠিক নীচেই অবস্থিত এবং মূত্রনালী প্রোস্টেট গ্রন্থির ভিতর দিয়ে নীচের দিকে নেমে আসে। প্রোস্টেট হতে সেমিনাল ফ্লুয়িড তৈরী হয় এবং এই প্রস্টেট নির্যাস শুক্রের চলাচলে সহায়তা করে ও পুষ্টি প্রদান করে। প্রোস্টেট ক্যান্সার পুরুষের খুব সাধারণ ক্যান্সারের একটি যাতে যুক্তরাষ্টে প্রতি ছয়জনে একজন আক্রান্ত হয়। প্রাথমিক অবস্থায় প্রোস্টেট ক্যান্সার সনাক্তকরণ অতীব জরুরী কারণ এটা জীবনের প্রতি হুমকি স্বরূপ। সামপ্রতিক সময়ে প্রাথমিক অবস্থায় প্রোস্টেট ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিত্সায় অনেক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এতকিছু সত্ত্বেও এখনও প্রোস্টেট ক্যান্সারই পুরুষদের জন্য এক নম্বর নীরব ঘাতক ক্যান্সার। প্রোস্টেট ক্যান্সার সাধারণত খুব ধীরে ধীরে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এবং প্রথমদিকে এটা প্রোস্টেট গ্রন্থির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। সেক্ষেত্রে এটা মারাত্মক ক্ষতি নাও করতে পারে। যদিও কিছু প্রোস্টেট ক্যান্সার খুব ধীর গতিতে বৃদ্ধি পায় এবং রোগীর বয়স যদি ৭০ বছর বা তার বেশী হয় তবে খুব সামান্য চিকিত্সা বা কখনও কোন প্রকার চিকিত্সারই প্রয়োজন হয় না। অন্যান্য প্রোস্টেট ক্যান্সার খুবই আক্রমণাত্মক এবং দ্রুত বিস্তৃতি লাভ করে। যদি প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করা যায় যখন এটা প্রোস্টেট গ্রন্থির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। সেক্ষেত্রে চিকিত্সায় সফলতার সম্ভাবনা বেশী থাকে এবং সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব হয়। প্রোস্টেট ক্যান্সারের উপসর্গ প্রাথমিক পর্যায়ে প্রোস্টেট ক্যান্সার সাধারনত উল্লেখযোগ্য কোন উপসর্গ তৈরী করে না, ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ক্যান্সার প্রোস্টেটের বাইরে বিস্তৃতি লাভের আগে সনাক্তকরণ সম্ভব হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিয়মিত সড়ৃনিং করার সময় যেমন, প্রোস্টেট স্পেসিফিক এন্টিজেন (পিএসএ) টেস্ট বা আঙ্গুল দিয়ে মলদ্ব্বার পরীক্ষা করে প্রথমে এই ক্যান্সার সনাক্ত করা হয়। যখন উপসর্গ দেখা দেয় তখন এই উপসর্গ নির্ভর করে ক্যান্সার কতদুর অগ্রসর হয়েছে এবং কতটুকু ছড়িয়ে পড়েছে তার উপর। প্রোস্টেট ক্যান্সারের প্রাথমিক উপসর্গের ক্ষেত্রে প্রস্রাবে সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে যখন এই প্রোস্টেট টিউমার মূত্রথলিতে বা মুত্রনালীতে চাপ দেয়। যাইহোক, প্রস্রাবের সমস্যাগুলি সাধারণত প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি, মূত্রাশয়ের সংক্রমণ, মূত্রাশয়ের অস্থিরতা বা প্রোস্টেট ইনফেকশন থেকেই হয়ে থাকে। প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর মূত্রত্যাগ সংক্রান্ত উপসর্গসমূহ (শতকরা ৫ ভাগেরও কম) প্রস্রাব করতে অসুবিধা প্রস্রাব করার সময় হঠাত্ বন্ধ হয়ে আবার শুরু হওয়া চিকন ধারায় প্রস্রাব হওয়া বা ধীর গতিতে দীর্ঘক্ষণ ধরে প্রস্রাব হওয়া। প্রোস্টেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ বা স্থানীয় অঙ্গ-প্রতঙ্গে বিস্তৃত ক্যান্সারের উপসর্গ প্রস্রাবে রক্ত আসতে পারে। বীর্যে রক্ত আসতে পারে। পেলভিক লিম্ফনোড বা লাসিকা গ্রন্থে বিস্তৃত প্রোস্টেট ক্যান্সারের উপসর্গ যে কোন এক পায়ে পানি জমতে পারে পেলভিসে বা বস্তিপ্রদেশে ব্যথা বা অস্বস্তি লাগতে পারে। প্রোস্টেট ক্যান্সার হাড় পর্যন্ত বিস্তৃতি হলে তার উপসর্গ হাড়ের ব্যাথা যা সহজে ভাল হচ্ছে না বিনা আঘাতে বা স্বল্প আঘাতে হাড় ভেঙ্গে যাওয়া মেরুদন্ডের ভিতরে ক্যান্সার বিস্তৃত হওয়ার কারণে প্যারালাইসিস। প্রোস্টেট ক্যান্সারের কারণ ক্যান্সার হচ্ছে একধরনের অস্বাভাবিক কোষের সমষ্টি যা সাধারন কোষের চেয়ে দ্রুতগতিতে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। ক্যান্সার কোষ সাধারণ টিস্যু বা কলাতে ঢুকে এদের ধ্বংশ করার ক্ষমতাও রাখে এবং এক্ষেত্রে এরা সরাসরি অঙ্গসমূহে বিস্তৃত হয় এবং রক্তস্রোত অথবা লসিকাতন্ত্রের (লিম্ফোটিকস) মাধ্যমে দেহের দূরবর্তী অঙ্গে পৌঁছে যায়। আনুবীক্ষণিক ক্যান্সার কোষগুলো ক্রমাগত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে ঘন এবং শক্ত পিন্ডের সৃষ্টি করে। কেন প্রোস্টেট ক্যান্সার হয় এবং কেন বিভিন্ন প্রকারের ক্যান্সারের আচরন ভিন্ন ভিন্ন তা এখনও অজানা। গবেষণায় বলা হয় অনেকগুলো বিষয় এরজন্য দায়ী হতে পারে। যেমন, বংশগতি সংক্রামিত জাতীয়তা, হরমোন এবং খাদ্যাভ্যাস। এশিয়ান দেশগুলোতে প্রোস্টেট ক্যান্সারের প্রকোপ খুবই কম কিন্তু আমেরিকা এবং ইউরোপীয় দেশসমূহে এই ক্যান্সারের প্রকোপ অত্যন্ত বেশী এবং বলা হয়ে থাকে যে, ‘প্রোস্টেট ক্যান্সার পুরুষের নীরব ঘাতক’।