পশ্চিমের জেলাগুলোতে কাঁঠালের ভরা মৌসুম চলছে। এবার কাঁঠালের দাম কম হওয়ায় বাগান মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বছর যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলাতে আনুমানিক ৩০ কোটি টাকা মূল্যের কাঁঠাল উত্পাদন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের হাতে কত হেক্টরে কাঁঠাল বাগান আছে তার কোন তথ্য নেই। এ অঞ্চলে মানুষ বাণিজ্যিক ভাবে কাঁঠাল বাগান গড়ে তুলছে। এ জন্য বিগত কয়েক বছর যাবত্ কাঁঠালের উত্পাদন বাড়ছে। জ্যৈষ্ঠ মাস থেকেই ঝিনাইদহের শৈলকুপা, খালিশপুর, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, বারোবাজার, ঝিনাইদহ সদর, হাটগোপালপুর শেখপাড়া, হলিধানি ও ডাকবাংলা, মাগুরার শ্রীপুর, আলমখালী, শত্রুজিত্পুর, মহম্মদপুর, শালিখা ও আড়পাড়া, যশোর জেলার বসুনদিয়া, রূপদিয়া, নওয়াপাড়া, ঝিকরগাছা, চৌগাছা ও বারিনগর, চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর, আলমডাঙ্গা, ডিঙ্গেদহ, ও চুয়াডাঙ্গা সদর, মেহেরপুর জেলার গাংনী ও সদর, কুষ্টিয়া জেলার উজানগ্রাম , বিত্তিপাড়া ও পান্টি এবং নড়াইল জেলার পুলম ও বড়দিয়া প্রভৃতি স্থানে কাঁঠালের হাট বসে। আশ্বিন মাস পর্যন্ত হাটে কাঁঠাল ওঠে। সবচেয়ে বড় কাঁঠালের হাট বসে শৈলকুপা, বসুনদিয়া ও খালিশপুরে। একমাত্র শৈলকুপা হাট থেকে শনি ও মঙ্গলবার ১০ ট্রাক কাঁঠাল দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান যায়। শৈলকুপা হাটে আগত বেপারিরা জানায়, এবার কাঁঠালের দাম কম। ছোট সাইজের প্রতিশ’ কাঁঠাল নিচে এক হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সাইজের কাঁঠাল প্রতিশ’ ৪ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা এবং বড় সাইজের প্রতিশ’ ৮ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের চেয়ে কাঁঠালের পাইকারি বাজারে দাম শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ কম বলে বেপারিরা জানায়। শৈলকুপা হাটে সপ্তাহে ৪০ লাখ টাকা মূল্যের কাঁঠাল কেনাবেচা হচ্ছে। মাসে এ হাটে কোটি টাকার কাঁঠাল কেনাবেচা হয়ে থাকে।
রসগোল্লাকে হার মানায় কাশিপুরের কাঁঠাল
তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, ভালো কাঁঠালের স্বাদ পেতে হলে যেতে হবে তালা উপজেলার কাশিপুর গ্রামে। এ গ্রামে অনেক কাঁঠাল গাছ রয়েছে। কাঁঠালের কোষ হয় রসগোল্লার মতো। কাঁঠালের কোয়া (কোষ) দেখতে গোল, উপর থেকে খাজা কিন্তু কামড় দিলেই রসে ভেজা রসগোল্লার মতো। এখানকার অতুলনীয় স্বাদে-গন্ধে আঁঁশমুক্ত কাঠালের কদর অনেক। তবে এখানকার কাঁঠালের দাম একটু বেশি। সরেজমিনে কাশিপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ বাড়ির আঙ্গিনায় একাধিক কাঁঠালের গাছ। কাঁঠাল বাগানও আছে বেশ কয়েকটি। ঐ গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, তাদের অনেকগুলো গাছ ছিল। তবে কপোতাক্ষের সৃষ্ট স্থায়ী জলাবদ্ধতায় অধিকাংশ গাছ মারা গেছে। বৃদ্ধ নুরু মিয়া বলেন, কাশিপুর গ্রামের কাঁঠাল একবার যে খাবে সে বারবার খুঁজবে। আসলে এই গ্রামের মাটি উন্নত জাতের হওয়ায় কাঁঠাল চাষের উপযোগী। এ গ্রামে প্রায় ১৫ হাজার কাঁঠাল গাছে চলতি বছর কাঁঠাল ধরেছে কয়েক লাখ। এসব কাঁঠাল এলাকার বেপারীরা কিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। এখানকার কাঁঠালের দাম নিম্ন ৭০টাকা হতে ৩শ’ টাকা পর্যন্ত।
