মাছের দেশে মাছের অভাব কেন

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৩, ২১:০১
চলনবিল এলাকার এক বিরাট অংশ রয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলায়। একদা এখানে মিলতো কত না হরেক রকমের মাছ। বিলে মাছ কিলবিল করতো, তখন তো ঘরে ঘরে থাকতো ভাতের সঙ্গে কয়েক পদের মাছ। এ দিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি; অবাধে যখন তখন মাছ ধরার কারণে এক সময় মাছের উত্পাদন কমতে শুরু করে। অতঃপর ১৯৮৬ সাল থেকে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও নিমগাছিসহ আশেপাশের এলাকার পুকুর-দীঘিতে শুরু হয় ব্যাপকভাবে মাছ চাষ। এই তো ২০১০ সালে তাড়াশ ও রায়গঞ্জে বেড়াতে গিয়ে দেখেছি ওখানকার হাট-বাজারে রুই, পাঙ্গাস, সিলভার কার্প, মিরর কার্প মাছের ছড়াছড়ি। সবই ছিল চাষ করা মাছ। যে বাড়িতে উঠেছিলাম, সেখানে প্রতি বেলায় খেয়েছি কয়েক পদের মাছ। তৃপ্তিতে মন ভরে উঠেছিল। সে কথা কী ভোলার! আর সেই দিনগুলোতে ওখানকার দীঘি-পুকুরে উত্পাদিত মাছ কাছে ও দূরের জেলাগুলোতে চালান দেওয়া হতো। সম্প্রতি সেই বন্ধুটির বাড়িতে গিয়ে কোনো এক বেলায় এবার ভাতের সঙ্গে মাছ মিললো না। তবে মাংস, ডিম ও দুধ পেলাম প্রতি বেলায়। জিজ্ঞেস করলাম, মাছ-টাছ রান্না হচ্ছে না কেন? বন্ধুটি বললো, ২০১১ সাল থেকে দীঘি-পুকুরগুলোর লিজ দেওয়া নিয়ে গোলমাল; মত্স্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে পুকুর-দীঘি চলে যাওয়া; সঠিকভাবে মাছ চাষ না করার কারণে মাছের উত্পাদনে ধস নামে। যাঁরা মাছ চাষ করবেন তাদেরই তো দেখা নেই! এসব কারণেই মাছের উত্পাদন কমেছে। যে জন্য যা কিছু মাছ মেলে তার দামও অত্যাধিক। মাছ নেই বললেই চলে...। বলো, এ অবস্থায় কী করে মাছ খাওয়াই। তবে গাভী ও হাঁস-মুরগি লালনপালন বেড়েছে বলেই মাংস, ডিম ও দুধ আমাদের ভাগ্যে জুটছে। শুধু সিরাজগঞ্জে নয়, এর আশেপাশের জেলা পাবনা, বগুড়া, নাটোর, নওগাঁ, রাজশাহীতেও আজ মাছের দারুণ অভাব। নিম্নবিত্ত আর মধ্যবিত্তরা মাছ খেতে ভুলেই গেছে। কেউ বলে ‘আকাল’; কেউবা দুঃখ করে “এ জীবনে কি আর মাছ খেতে পারবো না” বলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন! তাই আর বিলম্ব নয়, এখনই সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ভাবতে হবে কী কী কারণে মাছ কমে যাচ্ছে; কীই বা করা হলে মাছের উত্পাদন বাড়ানো সম্ভব ইত্যাদি নিয়ে। তা না হলে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে মত্স্য নামটি রূপকথায় যে রূপ নেবে না তা কেই বা জানে! ঢাকা