প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায়ে ছাত্রী উপবৃত্তি চালু হচ্ছে। ফলে সারাদেশের স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ের এক লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রী এ সুবিধা পাবেন। সুবিধা হিসাবে একজন ছাত্রীকে উপবৃত্তি ২ হাজার ৪০০ টাকা, পরীক্ষার ফি বাবদ ১ হাজার টাকা, বই কেনার জন্য ১ হাজার ৫শ টাকা, টিউশন ফি বাবদ ৭২০ টাকা সর্বমোট ৫ হাজার ৬২০ টাকা দেয়া হবে। নীতিমালার আওতায় থাকা শিক্ষার্থীরাই এ উপবৃত্তি সুবিধা পাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল রবিবার এ উপবৃত্তি প্রদান কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিনিধি হিসেবে ১৫ জন ছাত্রীর হাতে উপবৃত্তি হস্তান্তর করবেন। ছাত্রীদের উপবৃত্তি দেয়ার জন্য বছরে ব্যয় হবে ৭৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
ছাত্রীদের উপবৃত্তি পাওয়ার শর্ত:একজন ছাত্রীকে এ উপবৃত্তির সুবিধা পেতে গড়ে ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি থাকতে হবে। এছাড়া পিতা-মাতার বার্ষিক আয় ৭৫ হাজার টাকার কম থাকা, ৭৫ শতাংশের ভূমির মালিক এবং ছাত্রীকে অবিবাহিত থাকতে হবে। পার্বত্য, হাওর ও মঙ্গাপীড়িত এলাকার ছাত্রীদের অগ্রাধিকার, দুঃস্থ-অসহায় গোষ্ঠী, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা, উপার্জনে অসমর্থ/বিকলাঙ্গ পিতা-মাতার সন্তান, প্রতিবন্ধী ছাত্রীরা অগ্রাধিকার পাবে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪০ শতাংশ ছাত্রী উপবৃত্তি পাবার যোগ্য হবে।
বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু আছে। ২০১২-১৩ অর্থ বছরে দেশের প্রায় ২৯ লাখ ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে ৬৬৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা উপবৃত্তি প্রদান করা হয়। এ সব প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবার পর থেকে উপবৃত্তি কাজ ট্রাস্ট চালিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সব স্কুল, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেয়ার লক্ষ্যে একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের জন্য ২০১০ সালের ২০ এপ্রিল স্বহস্তে লিখিত নির্দেশনা দেন। পরে পরিকল্পনা মন্ত্রীর সভাপতিত্বে কয়েকটি সভায় ট্রাস্ট আইনের খসড়া চূড়ান্ত হয়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন ২০১১ সালের গত ১২ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। পরে ২০১২ সালের ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট বিল ২০১২ পাস হয়। পরবর্তীতে গত বছরের ১৪ মার্চ তা বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। ট্রাস্ট আইন অনুযায়ী পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ এবং ২৩ সদস্য বিশিষ্ট ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি। এছাড়া ২৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী বোর্ডের সভাপতি। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে ধানমন্ডিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেল অফিসের ৩য় তলায় ট্রাস্ট বোর্ডের অফিস স্থাপন করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৩২ জন জনবল নিয়োগের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে। ট্রাস্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি নিয়মাবলী সম্বলিত খসড়া ‘চাকরি প্রবিধানমালা’ প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের কার্যক্রম শুরু করার জন্য ২০১১-১২ অর্থ বছরের বাজেটে সিডমানি হিসেবে ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ অর্থ পাঁচটি তফসিলী ব্যাংকে এফডিআর করে রাখা হয়েছে। সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অর্থ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত দান ও অনুদান, ব্যাংক-বীমা ইত্যাদির আর্থিক সহায়তা, লটারি, সমাজের বিত্তবান, শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের অনুদান, প্রবাসীদের আর্থিক সহায়তায় ট্রাস্ট পরিচালিত হবে।
