গলাচিপায় শিশু টুম্পা হত্যা

ল্যাপটপ কেনার টাকার জন্য ভাতিজিকে হত্যা করে চাচা

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৩, ২২:৩৭
ল্যাপটপ কেনার টাকার জন্য সাড়ে তিন বছরের শিশু টুম্পাকে হত্যা করেছে তার চাচা আতিকুল। বৃহস্পতিবার রাতে আতিকুলকে গ্রেফতারের পর এ চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। টুম্পার চাচা আতিকুলই (২২) তাকে অপহরণের পর হত্যা করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অথচ গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত আতিকুল টুম্পার ছবি পকেটে নিয়ে অপহূত ভাইঝিকে উদ্ধারের প্রাণপন চেষ্টার নাটক করে। কথিত অপহরণকারীদের কাছে মুক্তিপণের টাকা আতিকুলই পৌঁছে দেয়। পুলিশ সূত্র জানায়, মুক্তিপণের টাকা পৌঁছে দেয়ার জন্য বার বার যে আতিকুলের নাম উল্লেখ করে টুম্পার পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে বার্তা দেয়া হয় সে বার্তাগুলো আতিকুল নিজেই তার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রেরণ করেছিল। গ্রেফতারের পর আতিকুলের ঘর থেকে মুক্তিপণের ৪১ হাজার টাকা ও বার্তা প্রেরণ কাজে ব্যবহূত মোবাইল ফোনের সিমসহ মোট ১২টি সিম উদ্ধার করা হয়। আতিকুল জানায়, সে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন একটি ল্যাপটপ কেনার। কিন্তু নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়ায় সে ল্যাপটপ কিনতে পারেনি। এর আগে সে তার এক ফুফাতো বোনকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় করে ল্যাপটপ কেনার পরিকল্পনা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে সুযোগ বুঝে তার আরেক ফুফাতো ভাই হুমায়ুনের মেয়ে টুম্পাকে গত ২২ জুন রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় অপহরণ করে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর পাড়ে জঙ্গলে নিয়ে যায়। টুম্পা জেগে কান্না শুরু করলে সে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে টুম্পাকে হত্যা করে। অপহরণের ৪৫ মিনিটের মধ্যে টুম্পার নানা এবং আতিকুলের আপন চাচা কামালের মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মঙ্গলবার বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর পাড়ে ঝোঁপ থেকে গলাচিপা থানা পুলিশ টুম্পার লাশ উদ্ধার করে।