জিএসপি স্থগিত দুর্ভাগ্যজনক

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৩, ২২:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি রফতানি পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) যুক্তরাষ্ট্র সরকার বৃহস্পতিবার স্থগিত করার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি স্থগিতের বিষয়ে দুর্ভাগ্যজনক সিদ্ধান্তের খবর অবহিত হয়েছে। বাস্তবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের একদল লোক দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যাপারে প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ তার বাণিজ্য অংশীদারের সিদ্ধান্তের প্রতি পুরোপুরি শ্রদ্ধাশীল রয়েছে। তবে নিষ্ঠুর এই পদক্ষেপের কারণে দুই দেশের বিকাশমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নতুন করে বাধার মুখে পড়তে পারে। তাই এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বাংলাদেশের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন, নারীর ক্ষমতায়ন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায় বিচার এই মূলনীতিগুলোর ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব রয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, তৃণমূল পর্যায়ের নাগরিকদের ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ঝুঁকিতে থাকা লোকজনের সুরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ দমন, বৈশ্বিক শান্তি সর্বোপরি ব্যবসায়িক সম্পর্কের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপনসহ নানা ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাপকতর অংশীদারত্ব রয়েছে। বাংলাদেশ যখন কারখানার নিরাপত্তা উন্নীতকরণ ও শ্রমিকদের সুরক্ষায় কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছে সেই মুহূর্তে জিএসপি স্থগিত করা বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। ২০০৬ সালের শ্রম আইন সংশোধন, সুনির্দিষ্ট সময়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নেতৃত্বে সরকার-মালিকপক্ষ-শ্রমিক সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি এবং পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ পদক্ষেপগুলো প্রমাণ করে পরিস্থিতির উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিকতা রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার আশা করে, মার্কিন প্রশাসন খুব শিগগির বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দেবে। কারণ, বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার শর্ত অনুযায়ী স্বল্পোন্নত দেশগুলো উন্নত বিশ্বের দেশের কাছে অগ্রাধিকারমূলক বাজার-সুবিধাদি ভোগ করে থাকে। তৈরি পোশাক কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সমন্বিতভাবে তার সব বাণিজ্য অংশীদারের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাবে। বাংলাদেশ আশা করে, এ প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ক্রেতারা তাদের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত অংশীদারদের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাবেন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যকে আরও সমপ্রসারিত করতে ভূমিকা রাখবেন। স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে প্রত্যয়ী বাংলাদেশের মানুষ উদ্যোগী জাতি হিসাবে জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে ও সম্মান অর্জনে সক্ষম হবে। যেমনটি ১৯৭১ সালে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছিল।