বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেট কে ঘোষণা করবেন—বর্তমান দায়িত্বরত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, নাকি নবনির্বাচিত মেয়র আহসান হাবিব কামাল, এ প্রশ্নের সঠিক দিতে পারেননি নগর ভবনের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী। মেয়রবিহীন নগর ভবনের বয়স প্রায় দুই মাস হতে চলছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য গত ৯ মে পদত্যাগ করেন শওকত হোসেন হিরন। তিনি ঢাকায় গিয়ে অপর তিন মেয়রের সাথে একযোগে পদত্যাগ করলেও নগর ভবন থেকে বিদায় হয়েছেন তারও কয়েকদিন আগে। মেয়রবিহীন নগর ভবন কেমন চলছে তার অনুসন্ধানের শুরুতে জুন মাসের বাজেট নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে কথা বললে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। সকলেরই এক কথা—সম্ভবত নতুন মেয়র শপথ গ্রহণের পর তিনিই বাজেট ঘোষণা করবেন। শীঘ্রই বাজেট ঘোষণার কোন প্রস্তুতি নেই জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মেয়রের দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) নিখিল চন্দ্র দাস জানান, প্রস্তুতি নেই এ কথা ঠিক নয়, মন্ত্রণালয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। যদি বর্তমান অবস্থায় বাজেট ঘোষণার সিদ্ধান্ত আসে তাহলে তিনিই বাজেট ঘোষণা করতে পারবেন।
গত বছর এই সিটি কর্পোরেশনের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল ৩০ জুন। শওকত হোসেন হিরন তখন ৩২২ কোটি ২৪ লাখ ৮৪ হাজার ৯৯২ টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। এবার জুন মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে, তবুও বাজেট ঘোষণা তো দূরের কথা, নগর ভবনের স্বাভাবিক কাজকর্মেও নেমে এসেছে শ্লথ গতি। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদায়ী মেয়রের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত আওয়ামী লীগ দলীয়দের কোণঠাসা করার উদ্দেশ্যে নানান কৌশল নিয়ে ব্যস্ত। বিএনপিপন্থি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ প্রতিশোধ থেকে রক্ষা পেয়ে চাকরি বাঁচাতে কেউ নবনির্বাচিত মেয়র, আবার কেউ বিএনপি দলীয় কাউন্সিলর ও প্রভাবশালী নেতাদের পেছনে দৌড়-ঝাঁপ করছেন। নগর ভবনের কাজে মন নেই বিগত মেয়রের ঘনিষ্ঠদের। এরই মধ্যে নগর ভবন থেকে ফাইল উধাও এবং ফাইল পাহারা নিয়ে ব্যস্ত দুই গ্রুপ।
নগর ভবনের অভ্যন্তরে যখন এ বেহাল দশা তখন নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনের সেই উজ্জ্বল বাতিগুলো একে একে নিভে যাচ্ছে। বিবির পুকুরের তিনটি ফোয়ারার মধ্যে বড়টি বিকল। বাকি দুইটিতেও আর আগের মতো জলকেলির নৃত্য দেখা যায় না। বাতি জ্বলা ও ফোয়ারার পানি উত্সারিত হওয়ার মধ্যেও সমন্বয় নেই। বাতি জ্বললে পানি উঠে না, আবার পানি উঠলে বাতি জ্বলে না। পুকুরের চারপাশের সেই নয়নাভিরাম অসংখ্য লাইটের প্রায় অর্ধেক বিকল হওয়ার পথে। মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, বঙ্গবন্ধু উদ্যান ও পাবলিক স্কয়ার এখন আর ঝকঝকে-তকতকে নেই। ধুলাবালি পড়তে শুরু করেছে সর্বত্র। এ যেন অভিভাবকহীন এক নগরী। মাত্র দুই মাসের কম সময়ে কেন এ অচলাবস্থা তার জবাব মিলছে না কারো কাছ থেকে। বিএনপিপন্থি কাউন্সিলররা জানান, নবনির্বাচিত মেয়র আহসান হাবিব কামাল এখনো দায়িত্ব নেননি। তার আগেই সুবিধাবাদী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নাজুক অবস্থা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। তারা বলেন, নতুন মেয়র দায়িত্ব নিলে সব ঠিক হয়ে যাবে।
বাজেট নিয়ে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে সে ব্যাপারে প্যানেল মেয়র আলতাফ মাহমুদ সিকদার ইত্তেফাককে জানান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নন, বাজেট ঘোষণা করবেন নবনির্বাচিত মেয়র আহসান হাবিব কামাল। আলতাফ মাহমুদ সিকদার বলেন, নির্বাচনে জনগণের কাছে অনেক ওয়াদা দিয়ে আমাদের দল থেকে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আহসান হাবিব কামাল। তিনি প্রথম বাজেটেই যদি লক্ষ্য অনুযায়ী এগুতে না পারেন তাহলে জনগণের কাছে দেয়া ওয়াদা রক্ষা করা যাবে না। অপর প্যানেল মেয়র কে এম শহিদুল্লাহ বলেন, নির্বাহী কর্মকর্তা যেহেতু নগর ভবনের একজন স্টাফ সেহেতু তার ঘোষিত বাজেটে নগরবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হবে না। তাই নতুন মেয়রের জন্য অপেক্ষা করতে হবে । তিনি বলেন, নির্বাচিত একজন মেয়র যদি প্রথম বাজেটই নিজে ঘোষণা করতে না পারেন তাহলে তিনি আগামী এক বছর কাজকর্ম চালাবেন কিভাবে। নতুন মেয়র পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে গিয়ে প্রতি পদে পদে শুনবেন ‘এ খাতে বাজেট নেই, ওই খাতে বাজেট নেই’। তাই নির্বাচিত মেয়র বাজেট ঘোষণা করবেন এটাই আমরা চাই।
নতুন মেয়র শপথ গ্রহণের পর নতুন বাজেট ঘোষণা করবেন এ অপেক্ষাতেই এখন আছেন নগরবাসী।
