মিসরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থক ও বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে সহিংসতায় এক মার্কিন নাগরিকসহ শুক্রবার কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো কয়েকশ’ মানুষ। আজ রবিবার বিরোধীদের পূর্বঘোষিত গণবিক্ষোভ কর্মসূচির আগে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। এরকম সহিংস পরিস্থিতিতে দেশটিতে ‘গৃহযুদ্ধের’ আশংকার কথা বলছেন অনেকে।
মিসরের রাজধানী কায়রোসহ বিভিন্ন শহরে শুক্রবার ব্যাপক বিক্ষোভ করে বিরোধীরা। এসময় তারা মুসলিম ব্রাদারহুডের বেশ কয়েকটি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। আলেকজান্দ্রিয়ায় বিরোধীরা মুসলিম ব্রাদারহুডের অফিসের কাছে জড়ো হলে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে ঐ মার্কিন নাগরিকসহ দু’জন নিহত হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, কেবল আলেকজান্দ্রিয়ায় সংঘর্ষে ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছে। বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ সামলাতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়তে হয়েছে। এদিকে, মার্কিনী নাগরিকের নিহত হওয়া নিয়ে পরস্পরবিরোধী খবর পাওয়া গেছে। মিসরের সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বুকে ছুরিকাঘাতে তিনি নিহত হয়েছেন। অন্য খবরে গুলিবিদ্ধ হয়ে তার নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সংঘর্ষের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করার সময় তিনি নিহত হন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ ঘটনার তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে। এ ঘটনার পর ওয়াশিংটন তার দেশের নাগরিকদের মিসর সফরের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে।
মিসরের ক্ষমতাসীন দল ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির (এফজেপি) আদর্শিক সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড দাবি করেছে,আলেকজান্দ্রিয়াসহ তাদের আটটি কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। বিরোধীদের রবিবারের পরিকল্পিত গণবিক্ষোভের দু’দিন আগেই ইসলামপন্থী দলগুলো তাদের সমর্থকদের তাহরির স্কোয়ারে তাঁবু ফেলে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে মিসরের প্রভাবশালী ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ আল-আজহার দেশে ‘গৃহযুদ্ধ’ শুরুর ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। মিসরে বিস্ফোরণোন্মুখ পরিস্থিতিতে মুরসির হাজার হাজার সমর্থক যেমন মাঠে রয়েছে তেমনি তার বিরোধীরাও ব্যাপক সংখ্যায় সক্রিয়। উভয়পক্ষই শুক্রবার সারাদেশে সমাবেশ করছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মিসরের নাগরিকরা আরো সহিংসতার আশংকায় খাবার ও জ্বালানি মজুদ করছে।
