জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে নগরবাসী

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৩, ২১:৫৮
সাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে গত বৃহস্পতিবার থেকেই রাজধানীতে থেমে থেমে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে গতকাল শনিবার রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অলিগলিসহ বেশ কয়েকটি প্রধান সড়কে জমে হাঁটু পানি। এতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। দোকান খুলতে পারেনি ফুটপাতের খুচরা ব্যবসায়ীরা। সকালে পথচারীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে নিজ নিজ অফিসে পৌঁছতে পোহাতে হয়েছে দুর্ভোগ। বিকালে ঘরে ফেরার সময়ও একই অবস্থা। কোথাও কোথাও সড়কে নৌকা চলতে দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টিপাতের কারণে যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়া, রায়ের বাগ, মুগদাপাড়া, শান্তিনগর, মগবাজার, মালিবাগ-মৌচাক, নয়াপল্টন, রাজারবাগ, শ্যাওড়াপাড়া এবং মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক তলিয়ে গেছে। রাস্তার পাশের দোকানেও পানি ঢুকে পড়েছে। বিভিন্ন রাস্তায় জলাবদ্ধতার কারণে সকালে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। হাঁটু পর্যন্ত প্যান্ট গুটিয়ে ও জুতা হাতে নিয়ে অনেকেই পার হন পানি জমে থাকা স্থানটি। আর যারা যাতায়াতের জন্য রিকশা, অটোরিকশা ব্যবহার করছেন তাদেরকে একটু বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে। পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকা, জরাজীর্ণ রাস্তার সংস্কার না হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীতে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। যাত্রাবাড়ীর শেখদি এলাকায় এতোটাই পানি জমেছে যে ওই এলাকার চার পাঁচটি সড়কে পথচারীদের যাতায়াত করতে হয়েছে নৌকায় চড়ে। এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তার কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তত্সংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার সৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তত্সংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং মংলা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি গিয়ে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।