ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস আজ

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৩, ২১:৫৯
আজ ৩০ জুন ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস। ১৫৬ বছর আগে ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দের এদিনে সংঘটিত হয়েছিল ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ। জমিদার ও মহাজন শ্রেণিসহ সমগ্র ইংরেজ শাসন ব্যবস্থাই ছিল সাঁওতালদের উপর নির্মম শোষণ ও নিপীড়নের জন্য দায়ী। অত্যাচার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে গণসংগ্রামের ডাক দেয় সিধু, কানুহু, চাঁদ ও ভৈরব চার ভাই। এদের নেতৃত্বে ১৮৫৫ খিস্টাব্দে ভগলা ডিহির ঐতিহাসিক মহাসমাবেশের পর ৩০ জুন হাজার হাজার অত্যাচারিত, নির্যাতিত, নিপীড়িত সাঁওতাল আদিবাসী তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নেমেছিল। বৃটিশ সরকার সামরিক শাসন জারি করে এবং বিদ্রোহী সাঁওতাল আদিবাসীদের দমন করার জন্য বিরাট ফৌজবাহিনী নিযুক্ত করে। ফৌজদের কামান ও রাইফেলের অগ্নিবর্ষণে ধনুধর সাঁওতাল বিদ্রোহীরা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। সেদিন বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে প্রায় ১০ হাজার নিরীহ সাঁওতাল আদিবাসী শহিদ হয়। সিধু, কানুহু সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। কানুহু ও তাদের বিরুদ্ধে রাজদ্রোহী অভিযোগ এনে ১৮৫৬ সালে ১৪-১৬ জানুয়ারি বিচারে তাদের ফাঁসির আদেশ হয় এবং তা কার্যকর হয়। সাঁওতাল আদিবাসীরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে সাঁওতাল বিদ্রোহের অগ্রগামী নেতা শহীদ সিধু, কানুহু, চাঁদ ও ভৈরবকে এবং প্রতি বছর ৩০ জুন সাঁওতাল আদিবাসী সমাজ ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে পালন করে আসছে সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস। এ উপলক্ষে দিনাজপুরে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ আদিবাসী একাডেমী এ দিবসটি পালনের লক্ষ্যে দিনব্যাপী পৃথক পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।