সিলেটে তাহের হত্যাকাণ্ডে চার্জশিট প্রত্যাখ্যান স্বজনদের

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৩, ২২:১০
জালালাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের সিবিএ নেতা আবু তাহের হত্যা মামলার চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তারা বলেছেন, সিআইডি আদালতে যে চার্জশিট জমা দিয়েছে তাতে প্রকৃত খুনিদের আড়াল করা হয়েছে। তারা র্যাব কিংবা সিলেটের বাইরের সিআইডি কর্মকর্তা দিয়ে মামলাটি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা বলেছেন তারা আদালতে চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১০ সালের ১০ জুন নগরীর কুমারপাড়ায় ঝরণারপাড়ে দুর্বৃত্তরা সিবিএ নেতা তাহেরকে জবাই করে। কোতয়ালী থানা পুলিশ কিছুদিন তদন্তের পর মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। ২০১১ সালের ২৬ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ হন সিআইডির পরিদর্শক শামীমুর রহমান পীর। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তাকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দেয়া হলেও তিনি তা আমলে না নিয়ে অনেকটা গোপনে আদালতে চার্জশিট প্রদান করেন। চার্জশিটে বলা হয়, অজ্ঞাতনামা খুনিরা তাহেরকে খুন করে দ্রুত মুকিতুদ্দোহার মোটর সাইকেলে ওঠে পালিয়ে যায়। তারা বলেন চার্জশিটে মুকিতুদ্দোহার নাম উল্লেখ করা হলেও এখনো সে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তাহেরের পরিবার এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে জালালাবাদ গ্যাস ক্ষেত্রের সিবিএর দ্বন্দ্বকে সন্দেহ করছেন। তাদের দাবি তত্কালীন সিবিএর সভাপতি আবু তাহেরের সঙ্গে অন্তর্দ্বন্দ্ব ছিল সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল হকের। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে তাহের খুন হতে পারেন। এছাড়া জালালাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের এর আগের সিবিএ সভাপতি বিএনপি নেতা মাসুক উদ্দিনের সঙ্গেও বিরোধ ছিল তাহেরের। সিবিএ নির্বাচনে মাত্র ২ ভোটে পরাজিত হওয়া শ্রমিকলীগ নেতা আবদুর রহমানের সাথেও তাহেরের দূরত্ব ছিল। এসব কারণে তাহের খুন হতে পারেন বলে দাবি তার পরিবারের। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা এসব দিক আমলে না নিয়েই মামলার চার্জশিট প্রদান করে প্রকৃত খুনিদের আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে আবু তাহেরের স্ত্রী সাজেদা আক্তার, মেয়ে আফরোজা আক্তার জাহান সুমী ও তার স্বামী উপস্থিত ছিলেন।