মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিকার বাণিজ্য বা জিএসপি সুবিধা উঠে যাওয়ার বিষয়ে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়াগুলো পূরণ করতে হবে। আমরা কিছু জিনিসে তাদেরকে সন্তুষ্ট করতে পারিনি। যেমন শ্রমিকের অধিকার নিয়ে কথা বলেছে, সেগুলো আমাদের করতে হবে। জিএসপি সুবিধা উঠে যাওয়ায় এ খাতের উন্নয়নে সরকারকে দেয়া মার্কিন সুপারিশ মানার পরামর্শ দেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
গতকাল শনিবার রাজধানীতে ডেফোডিল ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘সোশ্যাল বিজনেস ইয়ুথ কনভোকেশনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। শ্রমমান ও কাজের পরিবেশের দিক দিয়ে আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করতে পারিনি বলেই জিএসপি সুবিধা স্থগিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সুবিধা ফিরিয়ে আনতে তিনি কোন ভূমিকা রাখতে পারেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেনঃ যুক্তরাষ্ট্রের স্থগিত করা জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমার কিছু করার নেই। আমি তো সরকার নই যে আমি কিছু করবো। নেতৃত্বে পরিবর্তন আসা দরকার বলে তিনি মনে করেন কি-না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, নেতৃত্বে পরিবর্তন আসা দরকার। আর সেই পরিবর্তন আনবে তরুণরা। আমাদের জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ তরুণ। এ দেশের তরুণরা বিশ্বজুড়ে তাদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। তিন দশক আগেও কেউ ধারণা করতে পারেননি যে, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় হবে। গ্রামের মেয়েরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে, আমাদের পোশাক শিল্পকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে গেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ গোটা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষের মিলনক্ষেত্র হতে পারে। গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করে আমরা নেপাল, ভুটান ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোকে ব্যবসা করার সুযোগ দিতে পারি। একইভাবে চীন ও মিয়ানমারকে আমরা ব্যবসা করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে পারি। এক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, নানা জাতির মানুষকে ব্যবসা করার সুযোগ দিয়ে দেশটি এখন বিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশে পরিণত হয়েছে।
ড. ইউনূস বলেন, দরিদ্র লোকেরা তাদের দারিদ্র্য তৈরি করেনি, বিদ্যমান ব্যবস্থা তাদের দরিদ্র বানিয়েছে। এখনো দেশের বহু মানুষ বেকার। এটা কিন্তু তাদের দোষ নয়, দায়ী বিদ্যমান ব্যবস্থা। গ্রামীণ ব্যাংক রক্ষায় দেশবাসীর সহযোগিতা চান নোবেল বিজয়ী এ অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংককে ধ্বংস করে দেয়ার, প্রতিহত করতে সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।
