গত দুইদিনের টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা ও এর আশপাশের ডিএনডি অধ্যুষিত এলাকার নিম্নাঞ্চল। তলিয়ে গেছে রান্নাঘর, টয়লেট ও ঘরের মেঝে। সড়কের কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও কোমর সমান পানি। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ শহরেও দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। বৃষ্টিতে শহরের অনেক এলাকার সড়কগুলো পানির নিচে রয়েছে। শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা সবচেয়ে বেশি।
বৃষ্টিতে ফতুল্ল¬ার রামারবাগ, সস্তাপুর, গাবতলা, কায়েমপুর, চাঁদমারী, ইসলামবাগ, শহীদনগর, মাসদাইর, ইসদাইর, গাবতলী, এনায়েতনগর, তল্লা, সবুজবাগ, কুতুবপুর, পাগলা, দেলপাড়া, আলীগঞ্জ, দাপা, পিলকুনি, ভুইগড়, রঘুনাথপুর, কুতুব আইল, নয়াআটি, লামাপাড়া, সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলি, হাজীগঞ্জ, গোপটা, গোদনাইল, ধনকুন্ডা, জালকুড়ির নিম্ন এলাকাতে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।
সরেজমিনে ডিএনডির অভ্যন্তরের সদর উপজেলার ফতুল্লার ইসদাইর, গাবতলী, কাপুড়াপট্টি, টাগারপাড়, লালপুর ও সস্তাপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায় নিচু এলাকার একতলা কাঁচা, পাকা ও বেড়ার বাড়িগুলোর মেঝে পানিতে তলিয়ে গেছে।
ডিএনডি খাল দখলের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাউছুল আযম জানান, ডিএনডিতে ১৮টি খাল রয়েছে। ১০ জন খাল দখলকারীকে উচ্ছেদ নোটিস দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চাওয়া হয়েছে। অচিরেই উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরো জানান, ডিএনডি জলাবদ্ধতা নিষ্কাশনে কুতুবপুরে এলজিআরডি থেকে ৪টি নতুন পাম্পের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ডিএনডি সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার জানান, ডিএনডির ভেতরে জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশনে ২২টি ছোট ও ৪টি বড় পাম্প শুক্রবার থেকে চালু রয়েছে। জুলাই মাসে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ডিএনডির জলাবদ্ধতা যেন দীর্ঘস্থায়ী না হয় সে লক্ষ্যে সরকার থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।
