দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার অবস্থা এখনো সংকটজনক। তার স্বাস্থ্যের অবস্থার এখনো কোনো পরিবর্তন হয়নি। গতকাল শনিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, সবাই চান ম্যান্ডেলা শিগগিরই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরে আসুক। এদিকে ম্যান্ডেলার সমাধিস্থল নিয়ে আদালতে গেছেন ম্যান্ডেলা পরিবারের সদস্যরা। খবর বিবিসি, রয়টার্স এবং এএফপির।
ম্যান্ডেলার সাবেক স্ত্রী উইনি মাদিকিজেলা ম্যান্ডেলা জানিয়েছেন, ম্যান্ডেলার স্বাস্থ্যের উন্নতি হচ্ছে। তার সুস্থতা কামনায় প্রিটোরিয়ার হাসপাতালের বাইরে শুভাকাঙ্ক্ষীরা ভিড় করছেন। মন্ত্রী, রাজনীতিবিদরা ম্যান্ডেলাকে দেখতে হাসপাতালে যাচ্ছেন। হাসপাতালের বাইরে অবস্থানরত সবাই ম্যান্ডেলার স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা সারারাত হাসপাতালের বাইরে এবং ম্যান্ডেলার সোয়েতোর বাড়ির সামনে প্রার্থনা করেছেন। এ সময় ম্যান্ডেলার জন্য প্রার্থনামূলক গানও গেয়েছেন তারা। হাসপাতালে তার দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সমর্থকরা জড়ো হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, ম্যান্ডেলার অবস্থা অপরিবর্তিত। তবে মানুষের মধ্যে ম্যান্ডেলার অবস্থা নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ছে।
ম্যান্ডেলার সমাধিস্থল নিয়ে পরিবারের সদস্যরা বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন। শুক্রবার ম্যান্ডেলার পরিবারের ১৬ জন সদস্য একটি আঞ্চলিক আদালতে আবেদন জানিয়েছেন যাতে ম্যান্ডেলাকে তার পূর্বপুরুষের গ্রাম ইস্টার্ন কেপ অঞ্চলের কুনু গ্রামে সমাহিত করা হয়। এ বিষয়ে আইনজীবী ওয়েসলি হেস কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে তার নাতনি ম্যান্ডলা ম্যান্ডেলাকে এমভেজো গ্রামে সমাহিত করার পক্ষে। ম্যান্ডেলা প্রায় ২৯ বছর আগে কুনুতে সমাহিত করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন বলে খবর দেশটির গণমাধ্যমে বেরিয়েছে। সমাধিফলক যেন অনাড়ম্বর হয় সে ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। সাধারণ একটি পাথর দিয়েই হবে সমাধিফলক করার কথা বলেছিলেন। ম্যান্ডেলা তার ৭৮ বছর বয়সে এ ইচ্ছার কথা জানান। এ ইচ্ছা পরে পরিবর্তন হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
মারাত্মক ফুসফুস সংক্রমণের কারণে গত তিন সপ্তাহ যাবত্ হাসপাতালে আছেন ম্যান্ডেলা। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদের অবসানে সাদা-কালোর সহাবস্থানের প্রতীক হিসেবে বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখা হয় ম্যান্ডেলাকে। বর্ষীয়ান এ নেতার অসুস্থতায় সারাবিশ্বের মনযোগ এখন দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে। গত ছয় মাসে ম্যান্ডেলা এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো হাসপাতালে চিকিত্সাধীন হয়েছেন। তবে এবার ৯৪ বছর বয়সী ম্যান্ডেলা তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে আছেন। এ কারণে দেশবাসী মনে করছেন, তাদের প্রিয় নেতা সম্ভবত আর তাদের মাঝে ফিরে আসবেন না। বুধবার থেকেই ম্যান্ডেলার উদ্দেশে চিঠি লিখে, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিবাসীরা। হাসপাতালের চারপাশের দেয়াল ছেয়ে যায় ম্যান্ডেলার প্রতি শুভাকাঙ্ক্ষীদের লেখা বার্তা ও ফুলের তোড়ায়। বিলবোর্ডগুলোতে লেখা হয় ম্যান্ডেলাকে নিয়ে বার্তা, পুতুলের গলাতেও ঝুলিয়ে দেয়া হয় শ্রদ্ধার বাণী। তবে কয়েকদিন আগের তুলনায় ম্যান্ডেলার স্বাস্থ্যের অবস্থা এখন অনেক ভাল বলে জানিয়েছেন তার সাবেক স্ত্রী উইনি। উইনি বলেন, আমি ডাক্তার নই। কিন্তু তারপরও বলতে পারি কয়েকদিন আগে তার যে অবস্থা ছিল তারচেয়ে এখন বেশ উন্নতি হয়েছে। জোহানেসবার্গের সোয়েটোয় ম্যান্ডেলার পুরোনো বাড়ির বাইরে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার পর গত ৮ জুন থেকে দুই সপ্তাহ ধরে ৯৪ বছর বয়সী ম্যান্ডেলা হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।
