রাজশাহীর আদালতে বিচারক সংকট

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৩, ২৩:১৮
রাজশাহীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাজশাহী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৯ বিচারকের মধ্যে বর্তমানে ৫টি পদই শূন্য রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পদটিই শূন্য রয়েছে প্রায় একবছর ধরে। অন্যদিকে রাজশাহী চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের চারটি পদ দীর্ঘ দিন থেকে শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি শূন্য হয়েছে বাগমারা উপজেলা সহকারী জজ আদালতের বিচারকের পদটিও। সংশ্লিষ্টদের অভিমত, বিচারক নিয়োগের ব্যবস্থা ছাড়াই বদলির বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত। তা নাহলে জটিলতা কমবে না বরং বাড়বে। এর ফল ভোগ করতে হচ্ছে বিচার প্রার্থীদের। জানা গেছে, গত বছরের ৬ জুন রাজশাহী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। তখন থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিচারকের পদটি শূন্য রয়েছে। এছাড়া বদলিজনিত কারণে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শূন্য রয়েছে আরো ৪টি বিচারকের পদ। এগুলো হলো- সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (৩) এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১, ২ ও ৩। সূত্র মতে, গত ৩ থেকে ৬ মাস ধরে এসব বিচারকের পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ৫ বিচারকের পদ শূন্য থাকায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারিক কার্যক্রমে বিঘ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। হয়রানির মধ্যে পড়তে হচ্ছে বিচারপ্রার্থী মানুষকে। বিচারক না থাকায় বিশেষ করে বিচারাধীন মামলাগুলির ফাইলের কার্যক্রম চলছে মূলত তারিখ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। এদিকে বিচারক সংকটের কারণে একেকজন ম্যাজিস্ট্রেটকে একাধিক আদালতের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে মামলার সংখ্যাধিক্য বাড়ছে। এ কারণে আদালতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে বিচার প্রার্থী, বিচারক ও আইনজীবীদের। যে কারণে আদালতে আইনজীবীদের যেমন বসার স্থান সংকুলান হচ্ছে না, তেমনি আদালতের বারান্দায় বিচার প্রার্থীদের ভিড়ে চলাচল করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ছে। এতে নারী এবং শিশুদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিচারক সংকটের কারণে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।