কক্সবাজারের উখিয়ায় সরকারি বনাঞ্চলের জায়গা দখল করে গৃহ নির্মাণপূর্বক স্থায়ী বসবাস করছে প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গা। পরিবারের অধিকাংশ সদস্য মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করায় হুন্ডির মাধ্যমে তাদের পাঠানো টাকায় রোহিঙ্গারা বসতবাড়ির শ্রেণি পরিবর্তন করে স্থায়ী আবাসস্থল গড়ে তোলার লক্ষ্যে পাকা স্থাপনা তৈরি করলেও বন কর্তাদের যেন মাথা ব্যথা নেই। সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা বলছেন, পাঁকা স্থাপনা তৈরি করতে দেয়া হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার উখিয়া সদর মহিলা কলেজ সংলগ্ন বনভূমি ঘুরে দেখা যায়, জনৈক রোহিঙ্গা প্রবাসী তার কাঁচা বাড়ি ভেঙ্গে তদস্থলে বিশাল আকার দালান নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে, তারা ২০১১ সালে সপরিবারে তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে তারই এক নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তির নিকট থেকে ৫ লাখ টাকায় বসতভিটার দখল ক্রয় করে বসবাস করে আসছিলেন। মিয়ানমারে মংডুর নাইচাডং গ্রামের বাসিন্দা ঐ ব্যক্তির পরিবারের অন্য সদস্যরা সেখানে রয়েছে। ফখরুল জানান, বাড়ি নির্মাণ শেষ হলে তাদেরকেও নিয়ে আসা হবে। বাড়ি তৈরি করতে কাউকে জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে, উক্ত রোহিঙ্গা জানান, বিট কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের সাথে ২০ হাজার টাকা চুক্তি করে নগদ ৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। বাড়ি নির্মাণ হলে বাকি টাকা পরিশোধের কথা রয়েছে। জেলা বনবিভাগীয় কর্মকর্তা বিপুল কৃষ্ণ দাশ এ ব্যাপারে বলেন, তিনি উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। উখিয়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা বশিরুল আল মামুন জানান, উক্ত রোহিঙ্গার বসতবাড়ী নির্মাণ স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসির অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের তৈরি করা স্থাপনা ভাংচুর না করে নির্মাণ কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশের বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এভাবে থাইংখালী বিটের উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা সংলগ্ন বনভূমির জায়গা দখল করে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের পাঁকা স্থাপনা তৈরি অব্যাহত রেখেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
