মির্জাপুরে অবৈধ গ্যাস সংযোগের হিড়িক

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৩, ২২:০০
মির্জাপুর উপজেলায় চলছে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগের হিড়িক। সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং জিম্মি করে গ্যাস বিতরণের জন্য তিতাস গ্যাস টাঙ্গাইল অফিসের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং লাইন নির্মাণের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার (দালাল) চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। দালাল চক্রের হাতে জিম্মি সাধারণ মানুষ যারা বৈধভাবে গ্যাস পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন তারা পড়েছেন বিপাকে। বৈধ গ্রাহকরা আদৌ গ্যাসের সংযোগ পাবেন কিনা তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মির্জাপুর উপজেলা সদরের পৌরসভার প্রতিটি এলাকাতেই এভাবে অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারবার চলেছে বলে এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, অবৈধভাবে বাসা-বাড়িতে গ্যাসের পাইপ বসিয়ে রাইজার স্থাপন করা হচ্ছে। দিনে-রাতে চোরাই পথে বাসা-বাড়িতে গ্যাস সংযোগের কাজ চলছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শ্রমিক জানিয়েছেন। পৌরসভার কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দালাল চক্র সরকারি আইন অমান্য করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রাস্তা খুঁড়ে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে অবৈধভাবে নিম্নমানের পাইপ দিয়ে রাতারাতি গ্যাস সংযোগ দিচ্ছে। এই পাইপ দিয়ে গ্যাস চলাচলের সময় আগুন ধরে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন এলাকার মানুষ। ইতিমধ্যে বাইমহাটি এলাকায় মূল লাইন থেকে গ্যাস চুরি করে নেয়ার পর থেকে পাইপে আগুনের স্ফুলিঙ্গের সৃষ্টি হয়েছে এবং বুঁদবুঁদ শব্দ হওয়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১০ সালের জুলাই মাসে সরকার বাসা-বাড়িতে এবং সিএনজি স্টেশনের জন্য গ্যাস সংযোগ দেয়া বন্ধ করে দেয়। সে সময় যে সব বাসা-বাড়ির মালিক গ্যাসের জন্য আবেদন করেছিলেন তারা বিপাকে পড়েন। দীর্ঘদিন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের নিয়োজিত একটি দালাল চক্র নানা কারসাজির মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা নিয়ে অনেক বাসা-বাড়িতে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়েছিল। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। সম্প্রতি সাধারণ গ্রাহকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার গত মে মাসে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগকারীদের সরকারি কোষাগারে ৬ হাজার ৭৫০ টাকা ফি জমা দিয়ে অবৈধ সংযোগ বৈধকরণ এবং নতুনভাবে গ্যাস সংযোগের জন্য আবেদন গ্রহণের ঘোষণা দেন। আগামী ২০ জুন পর্যন্ত আবেদনপত্র জমা দেয়ার তারিখ ছিল। দালাল চক্রের সদস্য এবং তিতাসের ঠিকাদার মুকুল সাহা, নজরুল, প্রিন্স ও মঞ্জু এবং টাঙ্গাইল তিতাস গ্যাস অফিসের ম্যানেজার সুরুজ আলম, ডেপুটি ম্যানেজার বরুন কুমার রায় ও মাহবুব মোস্তফা অবৈধ গ্যাস সংযোগের সাথে সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মির্জাপুরে সহস্রাধিক গ্রাহককে অবৈধ ভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়ে এই চক্রটি ৭/৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। এখনো এরা একাজ করে প্রতিটি লাইন সংযোগ দেয় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকায়। গত এক সপ্তাহের মধ্যে মির্জাপুরে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে এভাবে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ হয়েছে। আর এখন মির্জাপুর বাজারের কুমারজানি রোড, বাইপাস এলাকা, গোড়াইল ট্রেন লাইন এলাকা, পুষ্টকামুরি, মির্জাপুর সাহাপাড়ার মুসলিম পাড়া, আন্ধরা, বাইমহাটি, উপজেলা পরিষদ এলাকা, বাওয়ার কুমারজানি ও সরিষাদাইরসহ বাসা-বাড়িতে চলছে নতুন করে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগের মহোত্সব। ফলে পূর্বে যারা বৈধভাবে আবেদনপত্র ও ডিমান্ড নোট জমা দিয়েছিলেন তারা আদৌ গ্যাস সংযোগ পাবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। এ দিকে চোরাই পথে গ্যাস সংযোগের কয়েকটি প্রতিবেদন এর আগে দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশ হলে ঐ দালাল চক্র এবং সিন্ডিকেট চক্র মির্জাপুরের ইত্তেফাক সংবাদদাতাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে। বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা তিতাস গ্যাস বিতরণ এন্ড ট্রান্সমিশন কোং লিঃ অফিসের ম্যানেজার সুরুজ আলম বলেন, যারা এই অবৈধ গ্যাস সংযোগে জড়িত তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অবৈধ লাইন দেয়া বন্ধ করা হবে।