‘পাচার ও বিভিন্ন কারণে শিশু বিক্রয়, যৌনকর্মে শিশুর ব্যবহার ও পর্নোগ্রাফি নির্মাণ ও ব্যবহারের ভয়াল থাবা থেকে শিশুদের রক্ষায় সমাজের সব মহলের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহবান জানিয়েছেন বক্তারা। সে সঙ্গে তারা বলেন, এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে, যাতে কোন শিশু পর্নোগ্রাফি বা যৌন কর্মের শিকার না হয়।
গতকাল রবিবার সকালে ইস্কাটনের বিয়াম মিলনায়তনে ‘শিশু বিক্রয়, শিশু যৌনকর্ম এবং শিশু পর্নোগ্রাফি বিষয়ে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের অপশনাল প্রটোকল: স্টেকহোল্ডারদের ভূমিকা’ শীর্ষক শিশু অধিকার ফোরামের জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এ আহবান জানান। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির কারণে মানুষের জীবন যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি কিছু সমস্যারও সৃষ্টি হয়েছে। মোবাইল ফোনের ব্যাপক বিস্তারের ফলে শিশুরা সহজে পর্নোগ্রাফি দেখতে পারছে এবং মেয়ে শিশুদের নগ্ন দেহ ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সরকারের পাশাপাশি বাবা-মাকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ৪০ হাজার পথশিশুকে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। বর্তমানে ৮ হাজার শিশু প্রতিমাসে ২ হাজার টাকা করে পাচ্ছে। তারা নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে। মন্ত্রণালয় তাদের লেখাপড়া তদারকি করছে। পর্যায়ক্রমে সব সুবিধা বঞ্চিত শিশুকে এ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পর্নোগ্রাফি আইন হয়েছে কিন্তু সে আইন সম্পর্কে এখনো মানুষ ভালোভাবে জানে না। যৌন হয়রানি বা পর্নোগ্রাফির মতো ঘটনা ঘটার আগে আমাদের সুরক্ষা দরকার। আর যারা এ ধরনের ঘটনার শিকার হন, তাদের পুনর্বাসন করাও দরকার। তিনি বলেন, সরকার ৩৮টি ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম চিহ্নিত করেছে, কিন্তু সেখানে গৃহকর্মীদের বাদ দেয়া হয়েছে। এতে করে একজন শিশু গৃহকর্মে কাজ করতে গিয়ে যৌন নিপীড়ন এবং পর্নোগ্রাফির মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছেন; সে জায়গায় আমরা সরকারি-বেসরকারি কোন সংগঠন কাজ করতে পারছি না। যে কারণে শিশুদের সুরক্ষা দিতে গেলে গৃহকর্মকে অবশ্যই শ্রম আইন এবং শিশু শ্রম নিরসন আইনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকা দরকার।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন তেরে দেস হোমস নেদারল্যান্ড-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. মাহমুদুল কবীর। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান। শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারম্যান মো. ইমরানুল হক চৌধুরী, পরিচালক আব্দুস শহীদ মাহমুদ প্রমুখ।
