কোথাও মানুষ মরে পড়ে আছে। কোথাও বরফ ভিজে লাল হয়ে গেছে অভিযাত্রীদের রক্তে। এমন ছবিগুলো যখন প্রজেক্টরের মনিটরে ভেসে উঠছিল তখন দর্শনার্থীরা উপলব্ধি করতে পারছিলেন পর্বোতারোহণ সত্যিই কঠিন এক ‘খেলা’।
আবহাওয়া খারাপ থাকায় এ বছর এপ্রিল-মে মৌসুমে বেশ কয়েকজন পর্বতারোহী নিহত হন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের ৫ম এভারেস্ট জয়ী সজল খালেদও ছিলেন। এই মৌসুমেই এদেশের এভারেস্ট জয়ী এমএ মুহিতও যান ‘কাঞ্চনজংঘা’ অভিযানে। প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য বারবার চেষ্টা করতে হয় তাকে। ফলে শেষ হয়ে যায় তার অক্সিজেন। তার দলের ১৩ জন অভিযাত্রী চূড়ান্ত অভিযানে সফল হন। তাদের মধ্যে ৫ জন শিখর জয়ের পর মৃত্যুবরণ করেন।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অভিযানে অংশগ্রহণকারী নিহতদের বিষয়ে বর্ণনা শুনে শিহরিত হয়ে ওঠেন উপস্থিত সকলে। বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা, অ্যান্টার্কটিকা ও সুমেরু অভিযাত্রী ইনাম আল হক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
মুহিত বলেন এ অভিযানে তারা ৪টি ক্যাম্প করেন। ক্যাম্প-১-এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে ৬ হাজার ১৫০ মিটার বা ২০ হাজার ১৭৭ ফুট, ক্যাম্প-২ সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে ৬ হাজার ৪শ মিটার বা ২১ হাজার ফুট উঁচু। ক্যাম্প-৩, ৭ হাজার মিটার বা ২৩ হাজার ফুট এবং ক্যাম্প-৪, ৭ হাজার ৩শ মিটার বা ২৪ হাজার ফুট উঁচু। মুহিত ৭ হাজার ৬শ মিটার পর্যন্ত আরোহণ করেন। তাদের দলের শেরপাসহ ১৩ জন পর্বতারোহী ২০ মে চূড়ায় উঠতে সক্ষম হন। বিকেল ৬টায় দুটি দলে বিভক্ত হয়ে তারা শিখর জয় করেন। হিমালয় অভিযান সাধারণত ভোরবেলায় শুরু করে সূর্যের তাপ বাড়ার সাথে সাথে শেষ করতে হয়। কারণ সূর্যের তেজ বাড়ার সাথে সাথে খারাপ হতে থাকে আবহাওয়া। ভাল আবহাওয়ায় ফিরে আসাও জরুরি। এভারেস্টের মতো কাঞ্চনজংঘায় ফিক্সড রোপ বা দড়ি বসানো থাকে না। তাই বিপদও এখানে বেশি। নামার সময় ২ জন শেরপাসহ ৫ জন মারা যায়। কারণ শরীর পারছিল না প্রতিকূলতার সাথে মানিয়ে নিতে। তাদের পথের বর্ণনা করেন মুহিত। মুহিত বলেন, গত বছর শেরপা ছাড়া হাঙ্গেরির পর্বতারোহী জুত বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক পবর্তশৃঙ্গ কে-টু জয় করেন। এই অভিযানে জুত মারা যান। নিজের ভাইকে মৃত দেখে চলে আসেন এক শেরপা। একজন পর্বতারোহী দুইদিন কষ্ট পেয়ে মারা যায় তাকে সাহায্য করার মতো খাদ্য ও অক্সিজেন কারো ছিল না।
মুহিত বলেন এত কষ্টের পর এই অভিযানে আমাদের সফলতা হল, হিমালয়ান ডাটা বেইজের কর্ণধার এলিজাবেথ হাউলি অভিযান শেষে হোটেলে আমার সাথে দেখা করতে আসেন। তিনি বলেন: তোমরা সমতলের লোক হয়ে বার বার আট হাজার মিটার শিখর অভিযান করছ। তোমার নাম আসছে তাই তোমাকে শুভেচ্ছা জানাই।
