সংসদে বাজেট পাস

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৩, ২৩:০০
শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতেই জাতীয় সংসদে পাস হলো ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। গতকাল রবিবার অধিবেশনের শুরু থেকে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদে উপস্থিত থাকলেও এক পর্যায়ে ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সুযোগ না দেয়ার প্রতিবাদে তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন এবং অধিবেশন শেষ হওয়া পর্যন্ত আর ফিরে আসেননি। তাদের অনুপস্থিতিতেই বাজেটের মূল পর্ব ‘নির্দিষ্টকরণ বিল ২০১৩’ এক তরফাভাবে কণ্ঠভোটে পাস হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন। সংসদের অধিবেশন আগামীকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। গতকাল সকাল ১১টা ১০ মিনিটে স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদে বাজেট পাসের প্রক্রিয়া শুরু হলে বিরোধী দলের সদস্যরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ভিত্তিক মোট ৫৬টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে ৭টি দাবির ওপর আলোচনা করার জন্য মোট ১ হাজার ২৩টি ছাঁটাই প্রস্তাব জমা দেন। সে অনুযায়ী তারা জনপ্রশাসন, অর্থ, আইন ও বিচার, স্বরাষ্ট্র এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দে আপত্তি জানিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে বক্তব্য দেন। তারা আরও কথা বলতে চেয়েছিলেন বিদ্যুত্ ও জ্বালানি এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বাজেটের ওপর। কিন্তু স্পিকার আর কোনো ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা সুযোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বেলা ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিষয়টি নিয়ে সংসদ কক্ষে তীব্র হৈচৈ শুরু হয়। বিরোধী দলের সদস্যরা একযোগে দাঁড়িয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এ পর্যায়ে বিরোধী দলের সিনিয়র সদস্য এম কে আনোয়ার পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে বলেন, বাজেট পাসের ক্ষেত্রে ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনার যথেষ্ট গুরুত্ব আছে। বিরোধী দলের সদস্যরা তো সব মন্ত্রণালয় সম্পর্কে বলছেন না। তারা মাত্র কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দের আপত্তি জানিয়ে কথা বলছেন। তাদের এই অধিকার হরণ করবেন না। তিনি বলেন, ৭টি মন্ত্রণালয়ের বাজেটের ওপর আলোচনার সুযোগ দেয়ার ব্যাপারে দু’পক্ষই একমত হয়েছিল। কিন্তু এখন হঠাত্ কেন এই সুযোগ কেড়ে নেয়া হচ্ছে এটা পরিষ্কার নয়। এরপর আওয়ামী লীগের শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বিরোধী দলের সদস্যরা এরইমধ্যে অনেক বক্তব্য দিয়েছেন। অসত্য কথা বলা যাদের অভ্যাস, তারা সব সময় অসত্যই বলবেন। অসত্য কথা বলার জন্য তাদেরকে আর সময় দেয়ার দরকার নেই। শেখ সেলিমের বক্তব্যের পর সরকারি দলের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুশ শহীদ বলেন, তাদেরকে (বিরোধী দল) এমনিতে যথেষ্ট সময় দেয়া হয়েছে। মাত্র ৫৬টি দাবির বিপরীতে তারা অনেক আলোচনার সুযোগ পেয়েছেন। আমরা বিরোধী দলে থাকতে আমাদের কোনো কথাই বলতে দেয়া হয়নি। তারা এখন ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর কথা বলতে গিয়ে অশ্লীল ও মানহানিকর কথাবার্তা বলছেন। তারা কার্যপ্রণালী বিধি মানছেন না। এটা চলতে দেয়া যায় না। এরপর বিএনপির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিষ্টার জমিরউদ্দিন সরকার দাঁড়িয়ে বলেন, বিরোধী দলের সদস্যরা খুবই প্রাসঙ্গিক আলোচনা করেছেন। তারা মাত্র কয়েকটি দাবির ওপর কথা বলতে চেয়েছেন। সবগুলো মঞ্জুরি দাবি নিয়ে কথা বলতে চান না তারা। কিন্তু সেই সুযোগও যদি দেয়া না হয়, তাহলে পার্লামেন্ট কার্যকর হবে কিভাবে ? জমিরউদ্দিন সরকারের বক্তব্যের পর তোফায়েল আহমদ বলেন, তারা যেভাবে অধিকাংশ সদস্য ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করছেন, এটা কোনো নিয়ম হতে পারে না। বিরোধী দলে থাকতে আমরা বেছে বেছে কয়েকজন সদস্য ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর কথা বলেছি। তারা যেভাবে ফ্রিস্টাইলে বলছেন, এটা চলতে থাকলে অনেক সময়ের প্রয়োজন হবে। এরপর স্পিকার বিরোধী দলের দাবি নাকচ করে দিয়ে গিলোটিনের (কণ্ঠভোট) মাধ্যমে বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা প্রথমে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ হৈচৈ করেন। এক পর্যায়ে তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। তাদের অনুপস্থিতিতেই বাকি মঞ্জুরি বরাদ্দসমূহ এবং বাজেটের মূল পর্ব ‘ নির্দিষ্টকরণ বিল ২০১৩ ’ একতরফা কণ্ঠভোটে পাস করা হয়। নির্দিষ্টকরণ বিল পাস নতুন ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেট ব্যয়ের বাইরে সরকারের বিভিন্ন ধরনের সংযুক্ত দায় মিলিয়ে মোট তিন লাখ ৪৪ হাজার ৫৪৯ কোটি ৮৬ লাখ ১১ হাজার টাকার নির্দিষ্টকরণ বিল জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। এর মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে গৃহীত অর্থের পরিমাণ দুই লাখ ৪ হাজার ৩১০ কোটি ৫২ লাখ ১৮ হাজার টাকা এবং সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায় ১ লাখ ৪০ হাজার ২৩৯ কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। সংযুক্ত তহবিলের দায়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, জাতীয় সংসদ, ট্রেজারি বিলের দায় পরিশোধ, হাইকোর্টের বিচারপতি ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের বেতন, খাদ্য মন্ত্রণালয় ইত্যাদি দায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ধরা হয়েছে ৬৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা। তবে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে এডিপিতে ৮ হাজার ১১৪ কোটি টাকার কর্মসূচি রয়েছে। সব মিলিয়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের এডিপিতে মোট খরচের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৭৩ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। নতুন বছরে অনুন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার ৬২১ কোটি টাকা। নতুন অর্থবছরে রাজস্ব বাবদে এক লাখ ৬৭ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আয় এবং ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতি থাকছে ৫৫ হাজার ৩২ কোটি টাকা। এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক সূত্র থেকে ২১ হাজার ৬৮ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে ৩৩ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা সংস্থানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উেসর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ২৫ হাজার ৯৯৩ কোটি এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে ৭ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেসব মন্ত্রণালয়ের বাজেটে বিরোধী দলের আপত্তি এর আগে ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা প্রথমেই আপত্তি জানান অর্থ মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি বরাদ্দে। তারা বলেন, বিগত কয়েক বছরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যে পরিমাণ লুটপাট হয়েছে, তাতে এই মন্ত্রণালয়ের জন্য নতুন করে অর্থ বরাদ্দ দেয়ার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেটেও তারা আপত্তি জানান। তারা বলেন, দেশে এখন আইনের শাসন বলে কিছু নেই। বরং সর্বত্র লাইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যারা সরকারি দলের সঙ্গে লাইন দিয়ে চলতে পারছে, তারাই কেবল নিরাপদ থাকতে পারছে। বাকি কেউ এখন আর নিরাপত্তা বা সুবিচার পাচ্ছেন না। উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে দলীয়করণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে রায় দেয়ার অভিযোগ করেন তারা। এর জবাবে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিষ্টার শফিক আহমেদ বলেন, দেশে জনসংখ্যার বিপরীতে উচ্চ আদালতে বিচারকের সংখ্যা এখনো অনেক কম। সে কারণে মামলার জট লেগে আছে। তিনি বলেন, বিচারক নিয়োগে বিধিবদ্ধ নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রধান বিচারপতির পরামর্শেই বিচারক নিয়োগ করা হয়। তবে বিএনপির আমলে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো যোগ্যতা, দক্ষতা দেখা হয়নি। সে সময় নিয়োগ পাওয়া বিচারকদের কেউ কেউ এখনো পর্যন্ত একা রায় লিখতে পারেন না। এত অযোগ্য বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আমাদের আমলে নিয়োগ পাওয়া বিচারপতিরা সকলেই অত্যন্ত যোগ্য এবং দক্ষ। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি বরাদ্দে আপত্তি জানিয়ে বিএনপির অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এত বাজেট দাবি দেখে আমরা শংকিত হয়ে পড়েছি। এ টাকা দিয়ে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ কিনে তিনি এরপর কার ওপর হামলে পড়বেন, সে চিন্তায় আমরা অস্থির। মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, সারা দুনিয়ার সবদেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী থাকেন জনসাধারণের নিরাপত্তা বিধানের জন্য। আর আমাদের দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, মানুষ দেখলেই গুলি করো। তার মানে মানুষের নিরাপত্তা ধ্বংস করার জন্যই কি এ বাজেট? রেহানা আক্তার রানু বলেন, পুলিশ আজ মানুষকে জিম্মি করে টাকা আদায় করছে। নিরীহ লোকদের ধরে নিয়ে বলে, তুই জঙ্গি, তুই শিবির, টাকা দে, না হলে চালান করে দেবো। এভাবে মানুষ জিম্মি করে তারা ব্যবসা চালাচ্ছে। আমজাদ হোসেন বলেন, যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হরতালকারীরা ধাক্কা দিয়ে সাভারের রানা প্লাজা ধসিয়ে দিয়েছে, তিনি মন্ত্রী থাকা অবস্থায় এ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দিয়ে কি লাভ হবে? বাজেটে বরাদ্দ দেয়ার আগে তাকে চিকিত্সার জন্য পাবনায় পাঠানো হোক। লুত্ফর রহামন বলেন, ছাঁটাই প্রস্তাবে আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ১ টাকা বরাদ্দ দেয়ার কথা বলেছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ওই মন্ত্রণালয়ে ১ টাকাও দেয়া উচিত না। জেডআইএম মোস্তফা আলী বলেন, দেশের সুধীজনরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে অভিহিত করেছেন। তার হাতে এমনিতেই অনেক অস্ত্র আছে, গোলাবারুদ আছে। এখন তাকে যদি আরো বাজেট দেয়া হয় তাহলে তিনি পুরো লাগামহীন হয়ে যাবেন। এমন একজন বিকৃত মানসিকতার লোক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকা অবস্থায় আর বাজেট দেয়া যায় না। নিলোফার চৌধুরী বলেন, আমাদের ট্যাক্সের টাকায় যিনি আমাদের ডাণ্ডাবেড়ি পরান, তিনিই আজকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একদিকে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জেল থেকে নিরাপদে ছেড়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের ময়লার গাড়ি পোড়ানোর মামলায় গ্রেফতার করে জেলে ঢুকাচ্ছেন। মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পর দেশের থানাগুলো সরকারি দলের সন্ত্রাসীদের ক্লাবে পরিণত হয়েছে। তাদের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, যে শক্তির গোলাবারুদ ইতিমধ্যেই আমরা ব্যবহার করেছি, তারচে বেশি শক্তির গোলাবারুদ কিনে দেশকে দুর্বৃত্তমুক্ত করা হবে। এ পার্লামেন্টে হেফাজতের দুর্বৃত্তপনা সম্পর্কে কথা উঠেছে। হেফাজতের ওখানে কেউ মারা গিয়ে থাকলে কোনো আত্মীয়-স্বজন তো দাবি নিয়ে আসেনি। তাহলে এ বক্তব্যের সত্যতা কোথায়? তিনি বলেন, গত কয়েক মাস ধরে দেশে আন্দোলনের নামে যে দুর্বৃত্তপনা চালানো হয়েছে, তাতে ১২ জন পুলিশ সদস্য ও ২ জন বিজিবি সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এদের কারা হত্যা করেছে, সেটাও আমাদের দেখতে হবে। যারা রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আগেও ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি বলেন, যারা আজ সন্ত্রাস নিয়ে কথা বলছেন, তারাই সন্ত্রাসের জন্মদাতা। তাদের সময় সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া সাহেবকে হত্যা করা হয় এবং সংখ্যালঘুদের ওপর বর্বরোচিত নির্যাতন চালানো হয়। আমরা কোনো সন্ত্রাসীকে ছাড় দেবো না। সকল সন্ত্রাসীকে শক্ত হাতে দমন করা হবে। বিরোধী দলের সদস্যরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দেও আপত্তি জানিয়ে বলেন, জনপ্রশাসন বলে এখন আর কিছু নেই। সীমাহীন দলীয়করণের ফলে গোটা প্রশাসনযন্ত্র এখন আওয়ামী লীগের একটি শাখায় পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগ না করার কারণে শতশত কর্মকর্তাকে পদোন্নতি বঞ্চিত করে ওএসডি করে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সরকারি দলের সমর্থক অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এমন দলীয়করণের কারণে প্রশাসনের অভ্যন্তরে কোনো জবাবদিহিতা এবং চেইন অব কমান্ড নেই।