ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা বা জিএসপি প্রত্যাহারের শংকা আপাতত কেটে গেছে। কারখানার নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যে ‘সর্বাধিক বাজার সুবিধা’ বহাল রাখার কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে এ ব্যাপারে নিজেদের অবস্থানের কথা তুলে ধরেছে ইইউ ।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে ইউরোপের বাজারে কেবল অস্ত্র ছাড়া সব ধরনের পণ্যে জিএসপি সুবিধা পায় বাংলাদেশ। এ সুবিধা প্রত্যাহারের মতো যে কোনো পরিস্থিতি অবশ্যই এড়াতে হবে। সুবিধা প্রত্যাহারের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ওপর বড় ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়বে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হানাও বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিলের আশংকা নাকচ করে দিয়েছেন। গতকাল একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাত্কারে হান্না বলেন, শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ইইউ’র কাম্য নয়। তবে এ সুবিধা সবসময় অব্যাহত থাকবে না বলেও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করার তিনদিন পর ইইউ তাদের অবস্থান জানিয়ে বিবৃতি দিলো। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করার পর ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদসহ নানা মহল থেকে ইইউভুক্ত দেশসমূহের জিএসপি সুবিধা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছিলো। তাদের আশংকার কারণ ছিলো এই যে যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের শ্রমমানের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করেছে, সেক্ষেত্রে ইইউ-ও হয়তো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইইউ’র ট্রেড কমিশনার আগামী ৮ জুলাই একটি বৈঠক ডেকেছেন। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। ‘স্টেয়িং এনগেজড: এ সাসটেইনিবিলিটি কমপেক্ট উইথ বাংলাদেশ’-শীর্ষক ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারীদের প্রতিনিধিসহ পোশাক ক্রেতারাও উপস্থিত থাকবেন। ওই বৈঠকে শ্রমিকের অধিকার, নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসহ দায়িত্বশীল ব্যবসার উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। এর আগে এসব বিষয়ে ইইউ‘র ট্রেড কমিশনার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপু মনির সাথে আলোচনা করেছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইইউ মৌলিক মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। শ্রমমানের বিষয়টি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য ইইউ আইএলও‘র সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইইউ সবসময় যুক্ত থাকতে চায় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের পোশাক কেনে, যা বাংলাদেশের মোট উত্পাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ।
