জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে স্বরূপকাঠি জাতের পেয়ারার ফলন এবছরও পিছিয়ে গেছে। যথাসময় বৃষ্টি না হওয়ায় জুনের শেষেও বাগানে পেয়ারার সমারোহ নেই। দুই সপ্তাহ ধরে পেয়ারা বাগান এলাকায় যথেষ্ট বৃষ্টি ঝরলেও এপ্রিল ও মে মাসের শুরুতে প্রয়োজনীয় বৃষ্টি না হওয়ায় এ ফলন বিলম্ব ঘটেছে। কৃষি বিজ্ঞানীদের নামকরণকৃত স্বরূপকাঠি জাতের পেয়ারা এ উপজেলাধীন কুড়িয়ানার গ্রামের নাম অনুসারে স্থানীয়ভাবে কুড়িয়ানার পেয়ারা বলে পরিচিত। এ গ্রামটিতে প্রায় তিনশ’ বছর আগে সূচিত এ পেয়ারার চাষ কয়েক যুগে আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের সীমানা ছাড়িয়ে পাশের জলাবাড়ি ইউনিয়ন ছাড়াও ঝালকাঠি সদর উপজেলা ও বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় বিস্তৃতি ঘটেছে।
আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নে ১৮টি, জলাবড়ি ইউনিয়নে ৫টি, বানারীপাড়া উপজেলায় ২টি, ঝালকাঠি উপজেলার ৫টিসহ মোট ৩২টি গ্রাম নিয়ে এ বিশাল এলাকায় পেয়ারার বাগান রয়েছে। আদমকাঠি গ্রামের পেয়ারা চাষী প্রেমানন্দ মন্ডল (৭০) জানান, পুরুষানুক্রমে তারা পেয়ারার চাষ করে আসছেন। এবছর সারা জ্যৈষ্ঠ মাস জুড়ে বৃষ্টি হয়নি, এমনকি আষাঢ়ের শুরুতেও তা না হওয়ায় পেয়ারার ফলন কমপক্ষে তিন সপ্তাহ পিছিয়ে গেছে। গতবছরও একই অবস্থা হয়েছিল। সাধারণত মধ্য আষাঢ়ে পেয়ারা পাকতে শুরু করে এবং বাজারেও পাঠানো হয়। এবছর আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহে পেয়ারা তোলার আশা করছেন তারা।
