আসন্ন রজমানে নগরবাসীর নিরাপত্তায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এতে পুলিশকে কঠোর এবং ধৈর্যশীল হবার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এ নির্দেশনাকে পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ‘মিঠেকড়া’ হিসেবে অবহিত করেছেন। গতকাল রবিবার ডিএমপি সদর দফতরে অনির্ধারিত অপরাধ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সকাল ১১টায় ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে এ সভায় উপস্থিত ছিলেন সকল অতিরিক্ত কমিশনার, জয়েন্ট কমিশনার, ডিসি, এসি ও সব থানার ওসিরা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্মসূচির আলোকে আজ সোমবার থেকে কার্যক্রম শুরু করবে। প্রতি মাসে একবার অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত হবার কথা থাকলেও নানা কারণে গত চার মাসে কোন অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত হয়নি।
বৈঠক সূত্র জানায়, অন্যান্য বারের মত এবারেও রজমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি প্রতিরোধে থানাগুলোতে বিশেষ টিম গঠন করা, নগরীর বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট বসানো। নিরাপত্তায় কাজে কমিউনিটি পুলিশ ও বিট পুলিশকে সম্পৃক্ত করা। রাস্তার পাশে বিশেষ করে অঅনুমোদিত স্থানে কোন অবস্থায় ইফতারি দোকান বসতে না দেয়া। ইফতারির দোকান বসানের ক্ষেত্রে পুলিশকে কঠোর হবার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভেজাল খাদ্য ও বাজার মনিটরিংয়ের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়োজিত থাকবে।
এছাড়া মার্কেট বিপণী বিতানসহ অন্যান্য মার্কেটের নিরাপত্তার ব্যাপারে দোকান মালিক সমিতি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বেশ কয়েকবার বৈঠক করে ডিএমপি। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের মতামতের ভিত্তিতে মার্কেট ও বিপণী বিতানের নিরাপত্তা সাজানো হয়েছে। অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, পকেটমার ঠেকাতে সাদা পোশাকে বিপুলসংখ্যক পুরুষ ও মহিলা পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি বড় অংকের টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রেও পুলিশ সহায়তা প্রদান করবে। এক্ষেত্রে পুলিশের পক্ষ থেকে ট্রান্সপোর্ট সুবিধা দেয়া সম্ভব হবে না। যারা পুলিশের সহায়তা নেবেন তাদেরকেই ট্রান্সপোর্ট সুবিধা দিতে হবে।
বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা জানান, গত কয়েক রমজানে রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আলোকেই নিরাপত্তায় কিছু বাড়তি সতর্কতা নেয়া হয়েছে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের গ্রেফতারে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি থানায় আগত সাধারণ মানুষ যেন পুলিশের কাছ থেকে ভাল ব্যবহার পায় সে ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ডিএমপি কমিশনার। আর কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার কোন ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি। অপরদিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পুলিশকে আরো কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ওয়ারেন্ট তামিল, মামলার সাক্ষীদের আদালতে নির্ধারিত সময়ে হাজির করা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বৈঠক সূত্র জানায়, রাজধানীর সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন ডিএমপি কমিশনার। তবে কূটনৈতিক জোন গুলশান এলাকায় একটি ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
ডিএমপির মিডিয়া এন্ড পাবলিকেশনের ডিসি মাসুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রমজান উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের মতোই সাজানো হয়েছে। বৈঠক সম্পর্কে তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে বেশ কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সে মোতাবেক আজ সোমবার থেকে কার্যক্রম শুরু হবে। তবে তিনি বলেন, ঈদের সময় ঘরে ফেরা মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে গন্তব্যে যেতে পারে সে ব্যাপারে পরবর্তীতে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কর্তৃক রমজান উপলক্ষে নেয়ার নিরাপত্তাকে ‘মিঠেকড়া’ হিসাবে অভিহিত করার ব্যাপারে অপর একজন কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি মিঠেকড়া কিনা জানি না। তবে নগরবাসীর নিরাপত্তার কথা মাথায় নিয়েই অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এবার বাড়তি কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
বৈঠকে শুভেচ্ছা জানানো হয় পুলিশের কনস্টেবল পিয়ারুল ইসলামকে। গত ৫ মে হেফাজত ইসলামের ঢাকা অবরোধকালে দুর্বৃত্তরা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি ট্রাফিক (পূর্ব) কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে। এসময় পিয়ারুল অগ্নিদগ্ধ হন। উন্নত চিকিত্সা শেষে শনিবার তিনি সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরেন।
