হারিয়ে যাচ্ছে শিবগঞ্জের প্রধান তিনটি নদী

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৩, ২৩:০৬
মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে মরা পদ্মাসহ এই এলাকার তিনটি নদী। নদীমাতৃক এই দেশের বিভিন্ন এলাকায় এভাবে নদ-নদী হারিয়ে যাওয়ায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা, আকস্মিক বন্যার মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বাড়ছে তেমনি বেকার হয়ে পড়ছে নদীনির্ভর জীবিকার হাজার হাজার মানুষ। শিবগঞ্জের এই তিন নদী হচ্ছে পাগলা, মরা পদ্মা ও চকের নদী। এখন যেটাকে আমরা মরা পদ্মা বলে জানি এককালে সেটাই ছিল মূল পদ্মা। পশ্চিমবঙ্গের মালদহ থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সে সময় এ নদী সাত কি.মি. প্রশস্ত ছিল। এ নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছিল বহু জনপদ, ছোট বড় অনেক বাণিজ্য কেন্দ্র। তখন এ নদী দিয়ে অতিকায় সব নৌকায় চড়ে দূর-দূরান্ত থেকে শত শত বণিক বাণিজ্য করতে আসতেন। কিন্তু ৬০-এর দশকে এই নদীর উজানে ভারত ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করায় প্রমত্তা কীর্তিনাশা পরিণত হয় মরা পদ্মায়। এখন দেখেও বোঝার উপায় নেই এক সময় কি প্রবলবেগে বয়ে যেত এই নদী। এই পদ্মার বুকে এখন হাজার হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফসল। গড়ে উঠেছে ছোট-বড় ৩০টি গ্রাম। নদীর বুকে শত শত বিঘা সরকারি জমি চলে গেছে ভূমি দস্যুদের হাতে। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। বর্ষাকালে অল্প বৃষ্টিতেই এ নদীর দুকূল ছাপিয়ে প্লাবিত হয় শত শত গ্রাম। শিবগঞ্জের দ্বিতীয় বড় নদী পাগলার বুকেও এখন আবাদ হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফসল। অথচ এক সময় পাগলা নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল বহু ব্যবসা কেন্দ্র। এ নদীটি ভারতের মুর্শিদাবাদ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর হয়ে বিনোদপুর, কানসাট ও শিবগঞ্জ, তর্তীপুর উজিরপুরের শেষ প্রান্তে গিয়ে মহানন্দার সাথে মিলিত হয়েছে। এ নদীটি একসময় এক কি.মি. প্রশস্ত ছিল। শিবগঞ্জের সবচেয়ে ছোট নদী ছিল চকের নদী। একে নীল কুঠির নদীও বলতো অনেকে। এ নদীটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নাধীন পশ্চিম দিক দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এ নদীর তীরেও গড়ে উঠেছিল বহু জনপদ, বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বাণিজ্যিক সুবিধা বিবেচনা করে ইংরেজরা এর দুই তীরে গড়ে তুলেছিল বেশ কিছু নীলকুঠি। প্রবল স্রোত ছিল এ নদীতে। প্রবল স্রোতের কারণে প্রতি বছর বহু মানুষ এতে ডুবে মারা যেত। এ কারণে এ নদীর পাতিয়ার বিল অংশকে বলা হত মানুষ খেকো বিল। বর্তমানে এ নদীর বুকেও আবাদ হচ্ছে নানা রকম ফসল।