পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০০১-এর বিরোধাত্মক ধারাসমূহ সংশোধনের দাবি জানিয়েছে দেশের ১০টি রাজনৈতিক দল। গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সঞ্চালনায় সাংবাদিক সম্মেলনে ১০ দলের পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ‘গণঐক্য’র আহবায়ক পঙ্কজ ভট্টাচার্য।
সংবাদ সম্মেলনে পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার অন্যতম একটি প্রধান দিক হলো ভূমি সমস্যা। ভূমি কমিশন আইনের বিরোধাত্মক ধারাসমূহ সংশোধনের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী অধিবাসী, দেশের নাগরিক সমাজসহ ১০ দল দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে।
রাশেদ খান মেনন বলেন, ত্রুটিপূর্ণভাবে ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সুপারিশ অবজ্ঞা করে বিলটি পাস হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি বিরোধ যথাযথভাবে নিষ্পত্তি হবে না। তিনি উত্থাপিত বিলে ‘বেদখল হওয়া জমি’ বিষয়ক বিরোধ ভূমি কমিশনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, ভূমি কমিশন আইনের সংশোধনী বিলে সুচতুরভাবে ‘পদ্ধতি’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়েছে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ‘পদ্ধতি’ শব্দটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রসঙ্গত, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন ২০১৩’ বিল সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়ে সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। বিলটিতে এখনও কিছু বিরোধাত্মক ধারা রয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন গণআজাদী লীগের সভাপতি হাজী আবদুস সামাদ, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. অসিত বরণ রায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা, সাম্যবাদী দলের কেন্দ্রীয় সদস্য বাবুল বিশ্বাস, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের আহ্বায়ক রাজেউর রশিদ খান, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজীব মীর প্রমুখ।
