আত্মহত্যা অবিশ্বাস্য!

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৩, ২০:২৭
গতকাল ভোরে গুলশান ২-এর নিজ বাসা থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে একে আত্মহত্যা হিসেবেই অভিহিত করছে। ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এমনটাই ধারণা তাদের। কিন্তু কী কারণে মিতানূর আত্মহত্যা করেছেন এর কারণ জানা যায়নি এবং কোনো সুইসাইড নোটও পাওয়া যায়নি। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হচ্ছে। তবে মিতা নূর আত্মহত্যা করেছেন এই বিষয়টি তার বন্ধুবান্ধব ও অভিনয়ের সহকর্মীদের কেউই মেনে নিতে পারছেন না। তাদের সবারই দাবি এটা আত্মহত্যা নয়, আর যদি আত্মহত্যা হয় তাহলে নিশ্চয়ই এর পেছনে অতিরহস্যের কিছু আছে। শর্মিলী আহমেদ :মিতা আত্মহত্যা করতে পারে এটা মেনে নিতে পারছি না। অসাধারণ একজন মানুষ ছিল মিতা। এত হাস্যোজ্জ্বল মানুষ মিডিয়াতে খুব কমই আছে। ও এভাবে চলে যেতে পারে না। বিষয়টা আমি ব্যক্তিগতভাবে মেনে নিতে পারছি না। সালাহউদ্দিন লাভলু :সকাল বেলা খবরটি পেয়েই হতাশ হয়ে যাই। আর যাই হোক, তার আত্মহত্যা আমার কাছে মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নয়। আমি বিষয়টি মেনে নিতে পারছি না। যদি একেবারেই তরুণ বয়সে এমনটা হতো তাহলে হয়তো একটা বিষয় থাকত। কিন্তু তার দুটি মেধাবী সন্তান আছে, সংসার আছে, সুন্দর সাজানো গুছানো এই সংসার ছেড়ে মিতা নূর আত্মহত্যা করতে পারে তা আমি বিশ্বাস করি না। দিতি :মিতা ছিল অনেক প্র্যাকটিক্যাল একজন মানুষ। ও এমন অস্বাভাবিক একটি কাজ করবে এটা আমি বিশ্বাস করতেই পারছি না। এইতো ক’দিন আগে আমার বাসায় ‘গুলশান এভিনিউ’-এর সবাইকে নিমন্ত্রণ করেছিলাম। সবার সাথে মিতাও এসেছিল। কী যে হাসিখুশি আর আনন্দের মধ্যদিয়ে ও সবাইকে মাতিয়ে রেখেছিল বলে বুঝানো যাবে না। শুনছি আত্মহত্যার কথা, আসলেই আত্মহত্যা কী না এ নিয়ে অনেকেরই সন্দেহ আছে। এমনকি আমারও। আর জীবনের এই সময়ে এসে দুইটি ফুটফুটে সন্তানঘেরা সংসার রেখে কেইবা আত্মহত্যার কথা ভাববে। চয়নিকা চৌধুরী :মিতার সঙ্গে আমার কোনো কাজ করা হয়ে উঠেনি। কিন্তু কাজ করার কথা ছিল। আমার নাটকে মিতার কাজ না হলেও তার সঙ্গে দেখা বা আড্ডা তো আর কম হয়নি। এমন একটি হাসিখুশিতে ভরা মানুষের আত্মহত্যা একেবারেই অবিশ্বাস্য। মীর সাব্বির :শুটিংয়ে যখনই আমি দেখতাম তখনই মিতা আপাকে বলতাম, আপনাকে নিয়ে একটি গান লিখেছি, শুনবেন। বলতেন, ‘বল তো।’ আমি বলতাম তোমায় নিয়ে বাঁধব আমি নতুন গানের সুর, মিতা নূর ও মিতা নূর। শুনে তিনি হাসতেন। আজ তিনি নেই। তিনি একটিই নাটক পরিচালনা করেছিলেন, আর সেখানে আমাকে কেন্দ্রীয় চরিত্রটি দিয়েছিলেন। এমন ভালো একজন মানুষ, হাস্যোজ্জ্বল মানুষ, সবসময় নিজের সন্তানদের প্রশংসা করতেন। তার এভাবে চলে যাওয়াটা মোটেও বিশ্বাস হচ্ছে না।