ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) উন্নয়নে একটি পৃথক ব্যাংক করার প্রস্তাব করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিকে এসএমই উন্নয়ন নীতিকৌশল-২০১৩ খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। এ খসড়া বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে আগামীকাল বুধবার একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় খসড়ার প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন ও এসএমইর জন্য পৃথক ব্যাংক প্রতিষ্ঠা বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক মতামত দিবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পের জন্য পৃথক এসএমই ব্যাংক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার, উন্নয়ন সহযোগী বা ডোনার এজেন্সী ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম, স্টার্ট আপ ফিন্যান্সিং স্কিম চালু করা যেতে পারে। একই সঙ্গে ক্লাস্টার ভিত্তিক অর্থায়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি নীতিকৌশলে সংযোজন করা প্রয়োজন। আর এসব কাজের জন্য একটি পৃথক এসএমই ব্যাংক দরকার। তবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের খসড়ায় এসএমই ঋণ বিতরণে বেসিক ব্যাংককে এসএমই ব্যাংকের ভূমিকা পালনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে শিল্প মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, এসএমই ফাউন্ডেশন, বিসিক ও অন্যান্য সংস্থাগুলোর এসএমই ঋণ বিতরণে বিশেষ সেবামূলক কাজ করবে। এজন্য দেশের সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো নারী উদ্যোক্তাদের তিন বছরের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য তাদের আবাসিক স্থানে ট্রেড লাইসেন্স দিবে।
সূত্রমতে, এর আগের ২০০৫ সালে এসএমই উন্নয়নে নীতিকৌশল প্রণয়ন করা হয়েছিল। নতুন এ নীতিকৌশলে উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালীকরণ এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) তিনটি ধারা সংযোজন করা হয়েছে। তবে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ এবং উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে একটি এসএমই পরামর্শক প্যানেল গঠনের ধারাটি বাদ দেয়া হয়েছে। এছাড়া কেন্দ ীয় ব্যাংক খসড়া নীতিকৌশলের ওপর এসএমই ফিন্যান্স ফেয়ার, এসএমই পণ্য মেলা, এসএমই উদ্যোক্তা মেলা প্রভৃতি উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বেগবান ও বৃদ্ধি করার পরামর্শ দিবে বলে জানা গেছে।
খসড়ায় এসএমই ফাউন্ডেশনের বিষয়ে বলা হয়েছে, এসএমই ফাউন্ডেশন একটি স্বাধীন ও ব্যতিক্রমধর্মী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের ভিশন হচ্ছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। আর এসএমই ফাউন্ডেশনের মিশন হচ্ছে, মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে বাংলাদেশের উত্পাদনমুখী ও সেবাধর্মী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে এগিয়ে নেয়া। আর নীতিকৌশল বাস্তবায়নে এ প্রতিষ্ঠানিট অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
বিসিক প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য এদেশের মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়নে বিসিক প্রধান সহযোগীর ভূমিকা পালন করবে এবং ২০২১ সালের মধ্যে এসএমই শিল্পকে বাংলাদেশের অর্থনীতির শক্তিকেন্দ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
এসএমই শিল্পের সংজ্ঞা নির্ধারণের বিষয়ে কেন্দ ীয় ব্যাংকের মত হচ্ছে, বাংলাদেশে এসএমই খাত জমি ও কারখানা ভবনবাদে প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ স্থায়ী সম্পদের মোট মূল্য কিংবা নিয়োজিত লোকবলের সংখ্যার আলোকে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এতে অনেক সময় তুলনামূলকভাবে বড় প্রতিষ্ঠানকে এসএমই উদ্যোগ হিসেবে দেখানো সুযোগ থাকে। তাছাড়া এ সংজ্ঞার আলোকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে বলেও এসএমই উদ্যোক্তা, উদ্যোক্তা সংগঠন ও বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করা হয়। এজন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তুলনা করে বিশ্বায়নের প্রেক্ষাপটে এসএমই’র সংজ্ঞা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে যুগোপযোগী করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, এসএমই ফাউন্ডেশন, চেম্বর প্রতিনিধি বা বেসরকারি সংগঠন বিল্ডের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে।
দেশের সম্ভাবনাময় রফতানি খাতের (বুস্টার খাত) বিষয়ে খসড়ার ৯ নং ধারায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আগরের বিশাল বাজার রয়েছে। আগর গাছকে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি হিসেবে গণ্য করে এটি রফতানিতে বিশেষ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে আগর গাছ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উত্পাদন করা হচ্ছে এবং স্বল্প পরিসরে রফতানিও হচ্ছে। আগর গাছকে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে সহজ শর্তে রফতানির সুযোগ দিলে এটি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য খাত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ জন্য আগরকে বুস্টার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে।
