বাংলাদেশী পন্যে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) স্থগিতে বিপদে পড়তে যাচ্ছে দেশটিতে জিএসপি সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া খাতগুলো। দেশটি জিএসপি প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে মূলত তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ উন্নত না হওয়া, তাদের ট্রেড ইউনিয়ন করতে না দেয়া এবং সেখানে শ্রমিকদের কাঙ্খিত মজুরি না দেয়াকে দায়ী করেছে। কিন্তু সেখানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত কোন জিএসপি সুবিধা পায় না। সে জন্য জিএসপি প্রত্যাহারে তৈরি পোশাক খাত সরাসরি ক্ষতির শিকার হবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে দেশটিতে জিএসপি সুবিধাপ্রাপ্ত রপ্তানি পণ্যের মধ্যে প্লাস্টিক পণ্য, সিরামিক ও তামাকজাত পণ্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি বাতিলে সরাসরি ক্ষহিগ্রস্ত হবে এসব খাত।
যুক্তরাষ্ট্রে গত ২০১২ সালে ৫৭ লাখ মার্কিন ডলারের সিরামিক পন্য রপ্তানি হয়েছিল। এর আগের বছর এই রপ্তানির পরিমান ছিল প্রায় ৬২ লাখ ডলারের। এসব পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পেত। কিন্তু এখন থেকে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। ফলে এ খাতের উত্পাদকরা মনে করছেন, সিরামিক পণ্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাবে। ইতিমধ্যে মার্কিন ক্রেতারাও ২০ থেকে ২৫ শতাংশ হারে দাম কমিয়ে দিয়েছে বলে এ খাতের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, বিশ্বের ১২৭টি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পায়। এই অবস্থায় বাংলাদেশ রপ্তানিকারকরা প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাবে।
গত অর্থবছরে ১ কোটি ১০ লাখ ডলারের টোবাকো রপ্তানি হয়েছে। এই খাত জিএসপি সুবিধা সরাসরি উপকারভোগী। জিএসপি বাতিলে ট্যোবাকো পণ্যকে শুল্ক কর মিলিয়ে ৩৫ শতাংশের বেশি পরিশোধ করতে হবে। এই অবস্থায় কোন ভাবেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয় বলে মনে করেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। একইভাবে প্লাস্টিক খাতও প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে। এ খাতের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, প্লাস্টিক খাত উদীয়মান রপ্তানি খাত ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তে এ খাতের অগ্রগতি পিছিয়ে পড়বে।
