শেয়ারবাজারে গত প্রায় আড়াই বছর ধরে অব্যাহত দরপতন ও লেনদেন কমে যাওয়ায় দেশের স্টক এক্সচেঞ্জের আয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নীট আয় হয়েছে ১৭৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ২০১১-১২ অর্থ বছরে তা হয়েছে মাত্র ৯৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। অর্থাত্ আগের বছরের তুলনায় আয় কমেছে ৮১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। শতাংশ হিসাবে আগের বছরের তুলনায় আয় কমেছে ৪৬ শতাংশেরও বেশি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্টক এক্সচেঞ্জের আয়ের অন্যতম উত্স হচ্ছে লেনদেনের উপর থেকে অর্জিত লাগা ও হাওলা চার্জ। শেয়ারবাজারের লেনদেনে বড় ধরনের ধস নামার কারণে এ দু’টি উত্স থেকে আয় কমে গেছে। ফলে সার্বিকভাবে স্টক এক্সচেঞ্জের আয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সদস্যদের লেনদেনের উপর ০.০২ শতাংশ হারে লাগা চার্জ আদায় করা হয়, যা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের নিকট থেকে আদায় করা হয়। লাগা চার্জ থেকে ২০১০-১১ অর্থবছরে ডিএসই ১৩০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা আয় করলেও ২০১১-১২ অর্থবছরে আয় হয়েছে প্রায় ৪৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। অর্থাত্ লাগা চার্জ থেকে ডিএসই’র আয় কমেছে ৬৪ শতাংশ। অপর উত্স হাওলা চার্জ থেকেও আয় ব্যাপকহারে কমেছে। ২০১০-১১ অর্থবছরের ১৯ কোটি ৫১ লাখ টাকার বিপরীতে ২০১১-১২ অর্থবছরে আয় হয়েছে মাত্র ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অর্থাত্ আগের বছরের তুলনায় ২০১১-১২ বছরে হাওলা চার্জ থেকে আয় কমেছে ১৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় থেকে হাওলা (ট্রেড) প্রতি ২ টাকা হারে চার্জ নেয়া হয়ে থাকে। আদায়কৃত এ চার্জ হচ্ছে হাওলা চার্জ। শেয়াররাবাজারে লেনদেন কমে যাওয়ার পাশাপাশি লেনদেন সংখ্যা কমে যাওয়ায় এ দু’টি উত্স থেকে ডিএসই’র আয় ব্যাপকহারে কমেছে।
আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা যায়, ২০১১-১২ বছরে ডিএসই’র আয় কমলেও ব্যয় কমেনি। বরং আগের বছরের তুলনায় ব্যয়ের পরিমাণ সামান্য বেড়েছে। এ সময়ে ৪৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় হলেও আগের বছর ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৪৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। তথ্যে দেখা গেছে, ডিএসই’র পরিচালন মুনাফা কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। ২০১০-১১ অর্থবছরের ১৩০ কোটি ৬১ লাখ টাকার বিপরীতে ২০১১-১২ তে আয় হয়েছে ৩৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। শতকরা হিসাবে পরিচালন আয় কমার হার ৭৪ শতাংশেরও বেশি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ২০১১-১২ বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
