সুষ্ঠু তদারকির অভাবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে মহিলা পুলিশের নির্ধারিত কোটা পূরণ হচ্ছে না। শান্তিরক্ষা মিশনে সদস্যদের পরিচালনা বিধিমালায় (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) শতকরা ২০ ভাগ নারীদের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে নারীদের এই কোটা চালু করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন। অথচ এই নারী কোটা পূরণে পুলিশ বাহিনীতে সুষ্ঠু তদারকি নেই। মহিলা পুলিশ সদস্যরা জানান, পুলিশ সদর দফতরে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ বিষয়টি একটু মনিটরিং করলেই মহিলা পুলিশ সদস্যের কোটা পূরণ সম্ভব। এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরের ইউএন ডেক্স শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, স্যাট (সেলথ এ্যাসেসমেন্ট টিম) পরীক্ষায় মহিলা পুলিশ অংশগ্রহণ করেন। তবে তাদের ২০ ভাগ কোটা পূরণ করা সম্ভব হয় না। কারণ এএসপি থেকে ডিআইজি পদমর্যাদার মহিলা পুলিশ কর্মকর্তারাই স্যাট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেন। সে ক্ষেত্রে সাব-ইন্সপেক্টর ও ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার মহিলা পুলিশ কর্মকর্তাদের অংশ গ্রহণ অনেক কম।
পুলিশ সদর দফতরের ইউএন ডেক্স শাখা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এফপিইউ (ফর্মড পুলিশ ইউনিট) ও স্যাট এই দুই ক্যাটাগরিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশ অংশ নেয়। গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত প্রি-স্যাট পরীক্ষায় ৫৫০ জন পুলিশ সদস্য (এসআই থেকে এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা) অংশ নেন। এদের মধ্যে মাত্র ২০ মহিলা পুলিশ সদস্য পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রি-স্যাট পরীক্ষায় মহিলা পুলিশ সদস্যের মধ্যে ৮ জন উত্তীর্ণ হন। এই প্রি-স্যাট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া পুলিশ সদস্যরা স্যাট পরীক্ষায় অংশ নেবেন। এর আগে গত বছর স্যাট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৩২ জন পুলিশ সদস্যের মধ্যে মাত্র ৫ জন ছিলেন মহিলা পুলিশ সদস্য।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার জন্য স্যাট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা একজন মহিলা পুলিশ সদস্য জানান, স্যাট পরীক্ষায় সাধারণত এএসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা থেকে তদুর্ধ্ব কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। অথচ সাব-ইন্সপেক্টর ও ইন্সপেক্টর এই দুই পদের মহিলা সদস্যদের অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয় না। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে আবাসন সংকট ও পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিরুত্সাহিত করা হয়।
