গতকাল সোমবার সকাল ৬টা থেকে রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় লাগাতার পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন বিভাগীয় কমিটি এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। ধর্মঘটের ফলে সড়ক পথে রাজধানীর সাথে রাজশাহী বিভাগ ছাড়াও রংপুর বিভাগের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুর্ভোগ ও হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন যাত্রীরা। আট জেলার মধ্যে রাজশাহী, বগুড়া, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে পরিবহন ধর্মঘট পালনের খবর জানিয়েছেন ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা।
রাজশাহী অফিস জানায়, পরিবহন ধর্মঘটের ফলে সড়কপথে রাজশাহীর সঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যানবাহন না থাকায় চরম দুর্ভোগ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। সকালে কিছু যাত্রী সিএনজি, হিউম্যান হলার, মাইক্রোবাসে দ্বিগুণ ভাড়ায় কর্মস্থলে পৌঁছালেও অধিকাংশই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে পরিবহন ধর্মঘটের কারণে চাপ পড়েছে ট্রেনের উপর। টিকিট না পেয়ে অনেকে মহিলা ও শিশুদের নিয়ে দাঁড়িয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন।
রাজশাহী থেকে বাস-ট্রাক, ট্যাংকলরিসহ সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কামাল হোসেন রবি জানান, শ্রমিকদের ১০ দফা দাবি বরাবরই উপেক্ষিত থাকছে। প্রশাসন আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলে তিনি জানান । শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে পরিবহন শ্রমিকদের নিয়োগপত্র প্রদান, হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধ উল্লেখযোগ্য।
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, ধর্মঘটের কারণে গতকাল বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চার শতাধিক যাত্রীবাহী যানবাহন আটকা পড়ায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। খাওয়া-দাওয়া ছাড়াও নারী, শিশু, বৃদ্ধ যাত্রীদের টয়লেট সমস্যা নিয়ে সৃষ্টি হয় বিব্রতকর পরিস্থিতির। এছাড়া বগুড়াসহ কয়েকটি জেলার শাক-সবজি, কাঁচামাল, বিশেষ করে মৌসুমী আম নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন উত্পাদক, চাষী ও ব্যবসায়ীরা।
এদিকে গতকাল বিকেলে বগুড়া জেলা ও পুলিশ প্রশাসন ধর্মঘটি শ্রমিক নেতাদের সাথে আলোচনায় বসে ধর্মঘট প্রত্যাহারের অনুরোধ জানালে নেতারা পরিষ্কার জানিয়ে দেন, তাদের ১০ দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। এসময় বগুড়া জেলা প্রশাসক শফিকুর রেজা বিশ্বাস এবং পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক পিপিএম উপস্থিত ছিলেন। তবে শ্রমিক নেতারা বলেছেন, যদি বিভাগীয় কমিশনার আলোচনার উদ্যোগ নেন, তাহলে তারা বিবেচনা করে দেখবেন। শ্রমিক নেতাদের এমন অনড় মনোভাবের কারণে আলোচনাটি ভেঙ্গে যায়।
