অস্ত্র মামলায় লিমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৩, ২২:৩৮
ঝালকাঠির বিশেষ আদালতে লিমনের বিরুদ্ধে র্যাবের দায়ের করা অস্ত্র মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার জেলার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক কিরন শংকর হালদার সরকার ও বিবাদি পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে লিমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার কাজ শুরুর আদেশ দেন। পাশাপাশি এই মামলা থেকে লিমনের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে আগামী ২৬ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। এদিকে আদেশ শোনার পর এজলাস কক্ষের বাইরে এসে লিমন ও তার মা হেনোয়ারা বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। কান্না জড়িত কণ্ঠে লিমন বলেন, ‘আমি আগেই জানতাম এখানে ন্যায়বিচার পাবো না।’ পরে লিমন ও তার আইনজীবীরা আদালতের আদেশ প্রত্যাখ্যান করে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে সাংবাদিকদের জানান। মামলার শুনানিতে অংশগ্রহণ শেষে সরকার পক্ষের আইনজীবী এম আলম খান কামাল বলেন, ‘লিমনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯ এর ক্যাপিটাল এ এবং গোলাবারুদ ১৯ এর চ (এফ) ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।’ অপরদিকে লিমনের আইনজীবী এডভোকেট নাসির উদ্দিন কবির বলেন, ‘র্যাব এজাহারে উল্লেখ করেছে যে ঘটনাস্থলে লিমন অজ্ঞান থাকা অবস্থায় তার চার দিকে গুলি এবং পিস্তল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেখানে মাত্র এক রাউন্ড গুলি ও একটি পিস্তল পাওয়া গেছে । এতেই বোঝা যায় লিমনে বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা।’ লিমনের আইনজীবী জানান, আদালত শুনানি শেষে একটি মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, ঘটনার সময় লিমন নাবালক থাকলেও অভিযোগ গঠনের সময় তার বয়স ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে হওয়ায় সে আর কিশোর আদালতে বিচারের সুযোগ পাবে না। এ প্রসঙ্গে লিমনের অপর আইনজীবী আক্কাস সিকদার বলেন, ‘ঘটনার সময় লিমনের বয়স ছিল ১৪ বছর, তাই তার অপরাধের বিচার কিশোর আদালতেই হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে আইনানুযায়ী বিচারের সময় তার বয়স কত সেটা বিবেচ্য নয়। তাই আমরা আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।’ লিমনও আপিল করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে লিমন গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে র্যাবের কথিত গুলিতে একটি পা হারান। পর দিন র্যাব বাদি হয়ে রাজাপুর থানায় লিমনের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা দায়ের করে। একই বছরের ২৪ এপ্রিল পুলিশ আদালতে লিমনসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলায় চার্জশীট দাখিল করে। অন্যদিকে ৩ জুলাই মামলা থেকে লিমনকে অব্যাহতি প্রদানের জন্য তার আইনজীবী আদালতে আবেদন করেন। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করলেও অপর ৬ জন পলাতক রয়েছেন। এদিকে লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম ছেলেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। আদালতের আদেশের প্রতিক্রিয়ায় গতকাল বিডিনিউজ’কে তিনি বলেন, ‘র্যাবের পক্ষে এই আদেশ অইছে, আমি হাইকোর্টে যামু। আমার পোলা নির্দোষ, র্যাব ওরে গুলি হইরা পঙ্গু হরছে, হাইকোর্টে তা প্রমাণ অইবো।’