সাভার রানা প্লাজা ভবন ধসে আটকা পড়া রেশমাকে উদ্ধার সম্পর্কে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। গতকাল সোমবার আইএসপিআর থেকে পাঠানো প্রতিবাদে বলা হয়েছে, সাভার রানা প্লাজা ভবন ধসে আটকা পড়া গার্মেন্টস কর্মী রেশমার উদ্ধার সম্পর্কে গত ৩০ জুন ২০১৩ তারিখে বৃটিশ ট্যাবলয়েড ‘‘সানডে মিরর’’ পত্রিকা প্রকাশিত একটি বিভ্রান্তিমূলক প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে ১লা জুলাই ২০১৩ তারিখে অপরিণামদর্শী ও অমানবিকভাবে মনগড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করে-যা দায়িত্বশীল সংবাদ মাধ্যমের নিকট হতে অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অনভিপ্রেত।
এ সকল বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনের প্রতিবাদে জানানো যাচ্ছে, গত ২৪ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে সাভারের ৯- তলা বিশিষ্ট রানা প্লাজা আকস্মিকভাবে ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার পর পরই সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি’র নেতৃত্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষিত সেনাসদস্যগণ এবং ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় জনগণ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় ধসেপড়া ভবনে আটকা পড়া মানুষজনকে উদ্ধারে আত্মনিয়োগ করেন। উদ্ধারকারীরা আটকা পড়া জীবিতদেরকে উদ্ধারের ব্যাপারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন। উক্ত ভবনে কয়েকটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির ইউনিট থাকায় সেখানে আটকে পড়াদের অধিকাংশই গার্মেন্টস কর্মী ছিলেন। এই উদ্ধার কাজ দুর্ঘটনার দিন হতে অর্থাত্ ২৪ এপ্রিল-১৩ মে ২০১৩ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনা করা হয়েছিল। উদ্ধার স্থলে দেশি- বিদেশি মিডিয়ার অবাধ বিচরণ ছিল। কোন কোন টিভি মিডিয়া উদ্ধার তত্পরতা সরাসরি সম্প্রচার করেছিল।
উদ্ধারকারীরা এক মুহূর্তের জন্যও উদ্ধার কাজ বন্ধ না রেখে অব্যাহতভাবে উদ্ধার চালিয়ে গিয়েছিলেন এবং মিডিয়াও উদ্ধারকর্মীদের সাথে রাত-দিন প্রতিটি মুহূর্ত জেগে থেকে উদ্ধার দৃশ্য এবং সংবাদ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল। এর মধ্যে ১০ মে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার ১৭ দিন পর উদ্ধারকর্মীরা একজন জীবিত ব্যক্তির সন্ধান পায়। প্রশিক্ষিত সেনা সদস্য ও ফায়ার সার্ভিস অত্যন্ত সতর্কতায় ধসে পড়া ভবন হতে একজন মহিলাকে উদ্ধার করেন। তার নাম রেশমা। তিনি একজন গার্মেন্টস কর্মী। মিডিয়াসহ সকলের উপস্থিতিতে তাকে বিকাল প্রায় সাড়ে ৪টায় উদ্ধার করা হয়।
রেশমাকে উদ্ধারের পরপরই চিকিত্সার জন্য সাভার সিএমএইচ-এ নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য সেনাবাহিনীর চিকিত্সকদের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় সকল চিকিত্সা দেয়া হয়। মিডিয়ার অনুরোধের প্রেক্ষিতে ডাক্তারদের সম্মতি সাপেক্ষে ১৩ মে বিকালে রেশমাকে মিডিয়ার সামনে নিয়ে আসা হয়। যদিও, তখনও তার ট্রমা কাটেনি, তত্সত্ত্বেও প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপী সাংবাদিকগণ তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। রেশমা সাংবাদিকদের সামনে ভবনে আটকা পড়ার দুঃসহ স্মৃতিচারণ করেছিলেন, যা দেশি-বিদেশি (বিবিসি, সিএনএন, আল জাজিরা ইত্যাদি) মিডিয়ায় তার বিস্তারিত বক্তব্য প্রচারিত/প্রকাশিত হয়েছিল।
এরপর রেশমা সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে সিএমএইচ থেকে ৬ জুন ২০১৩ তারিখে রিলিজ দেয়া হয়। হাসপাতাল থেকে বিদায় নেয়ার মুহূর্তে তিনি দেশি-বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের সাথে কথা বলেন যা সঠিকভাবে প্রচার/প্রকাশ করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, চিকিত্সাধীন অবস্থায় রেশমাকে বিভিন্ন সংস্থা চাকরির অফার দেয়। এর মধ্যে হোটেল ওয়েস্টিনের অফার রেশমা গ্রহণ করেন। সাভার সিএমএইচ থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি হোটেল ওয়েস্টিনে যোগদান করেন।
উদ্ধার ঘটনার প্রায় দীর্ঘ ৫০ দিন পর ‘‘সানডে মিরর’’ নামে বৃটিশ ট্যাবলয়েড পত্রিকা রেশমা উদ্ধার সংক্রান্ত যে বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করে, তা উদ্ধারকারীদের মনে চরম আঘাত দিয়েছে। তাদের ত্যাগ, সততা ও মানবতা বোধ প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পরিবেশনের ফলে রেশমার মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কেননা, তার ট্রমা এখনও সম্পূর্ণরূপে দূরীভূত হয়ে যায়নি।
সানডে মিররের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে দেশীয় কিছু গণমাধ্যমও অনুরূপ কাজ করে যাচ্ছে। এ সকল বিভ্রান্তিমূলক প্রতিবেদন প্রকাশের পথ পরিহার করে ১৩ মে ও ৬ জুন ২০১৩ তারিখে রেশমার সংবাদ/বিবৃতিগুলো সংবাদ মাধ্যমে পুনরায় প্রচার/প্রকাশের ব্যবস্থা নেয়া বাঞ্ছনীয়। তাদের এ পদক্ষেপ অবশ্যই সকলের সাধুবাদ অর্জন করবে। -সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
