উদ্ভা ব ন

কচুরিপানা দিয়ে আসবাবপত্র!

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৩, ১৯:২৮
কচুরিপানা সংগ্রহ করার পর তার পাতা ও মূল রোদে দিতে হবে। এরপর ছুরি দিয়ে কাটতে হবে লম্বালম্বিভাবে। ৩দিন রোদে থাকার পর ভেজাতে হবে সোডিয়াম মেটা সালফাইট বা কোস্টিক সোডা দিয়ে। কয়েকদিন পর ছোট ছোট করে তা উপকরণ হিসেবে কেটে মেশিনে দিতে হবে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় অংশ নিয়ে ঘরের সোফা, চেয়ার, খাট তৈরি করতে তা ব্যবহার করা যাবে  ‘প্রথমে কারোরই বিশ্বাস হচ্ছিল না। বলেছিলো, কচুরিপানা থেকে আসবাবপত্র? অসম্ভব। এটা হাস্যকর। কিন্তু পরে যখন সবাই জানলো আমরা এর জন্য পুরষ্কার পাচ্ছি তখন একটু নড়েচড়ে বসলো। ফোন আসতে লাগলো একের পর এক। নোবেল বিজয়ী ড.ইউনূস স্যার আমাদের অভিনন্দন জানালেন। সে এক অন্যরকম অনুভূতি।’ কথাগুলো বলছিলেন আমিরুল ইসলাম। চট্টগ্রাম ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির একজন শিক্ষার্থী। তবে কেবল তিনি নন, তার সঙ্গে থাকা আরো ৪ জন মিলে মোট ৫ বন্ধু প্রস্তাব করেছেন কচুরিপানা থেকে আসবাবপত্র তৈরি করা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, তেমনি পরিবেশ দূষণ কমে আসবে। দারিদ্র বিমোচনেও তা বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। আমির ছাড়াও এই দলে আরো রয়েছেন রকিবুল হাসান, শাফিউল ওয়াফি, সুমাইয়া মেহেজাবিন ও তানজিদা আফরিন। সম্প্রতি সোশাল বিজনেস প্ল্যান কমপিটিশানর পুরষ্কার ২০১৩ লাভ করেছেন মেধাবী এসব ছেলে মেয়েরা। সেখানে দেশ বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের আইডিয়া জমা দেয়। পরে তাদের প্ল্যানটিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। জানতে চাইলে এই বিষয়ে কথা হয় ইউনিভার্সিটির ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ আল নোমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গতবারও ইস্ট ডেল্টার ছেলে মেয়েরা প্ল্যান দিয়ে রানার আপ হয়েছিলো। তবে এবারের পরিকল্পনাটি সত্যিই ভালো হয়েছে।’ কচুরিপানা থেকে আসবাবপত্র! এও কি সম্ভব? জানতে চাইলে তারা জানান, দেশের বিভিন্ন জলাশয়, পুকুর, নদীতে অসংখ্য কচুরিপনা জমে থাকে। এগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। পাশ্ববর্তী দেশ থাইল্যান্ডে এই ধরনের একটি পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। কিভাবে প্রস্তুত হবে প্রশ্ন করলে উল্লেখ করেন, কচুরিপানা সংগ্রহ করার পর তার পাতা ও মূল রোদে দিতে হবে। এরপর ছুরি দিয়ে কাটতে হবে লম্বালম্বিভাবে। ৩দিন রোদে থাকার পর ভেজাতে হবে সোডিয়াম মেটা সালফাইট বা কোস্টিক সোডা দিয়ে। কয়েকদিন পর ছোট ছোট করে তা উপকরণ হিসেবে কেটে মেশিনে দিতে হবে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় অংশ নিয়ে ঘরের সোফা, চেয়ার, খাট তৈরি করতে তা ব্যবহার করা যাবে। ভবিষ্যত্ এসব নীতি নির্ধারকদের এমন পরিকল্পনায় হতভম্ব নোবেল বিজয় ড. ইউনূস। পুরষ্কার নেয়ার পর তিনি এসব ছেলে মেয়েদের বলেন, ‘আইডিয়াটা চমত্কার। অবশ্যই পুরষ্কার পাওয়ার মতো। সোশাল বিজনেসের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন। এই ধরনের প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে লোকজনের বিশেষ করে গ্রামীণ মহিলারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।’