ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

পড়তে চাইলে ব্যবসায় প্রশাসন

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৩, ১৯:২৯
এইচএসসি পরীক্ষা শেষ। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসন পড়ার ইচ্ছে থাকে অনেক শিক্ষার্থীর। তবে প্রতিযোগিতা হবে অনেক বেশি। ভর্তি হওয়ার জন্য অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হবে। সামনে সময় খুবই কম। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে তৈরি করতে হবে। প্রস্তুতিকে আরো গুছালো করতে পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আলী হায়দার। সহায়তা করেছেন- জিলফুল মুরাদ শানু ও শাওন হোসাইন। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন— বারেক কায়সার আলী হায়দার ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় ‘গ’-ইউনিট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতকার্য হওয়া অনেক কঠিন। কেননা ভর্তি পরীক্ষায় সুনির্দিষ্ট কোনও সিলেবাস থাকে না। তার ওপর আছে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংকট। সুতরাং মেধা দিয়েই আপনাকে এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। আর এজন্য চাই সঠিক প্রস্তুতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসনে পড়তে চাইলে ‘গ’ ইউনিটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। যারা বিজ্ঞান অথবা মানবিক বিভাগ থেকে ব্যবসায় শিক্ষায় আসতে চান, তাদের ব্যবসায় অনুষদে ভর্তির জন্য ‘ঘ’ ইউনিটে পরীক্ষা দিতে হবে। ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন- www.univdhaka.edu অথবা www.du.ac.bd। ভর্তি পরীক্ষার জন্য বাংলা, ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। বিষয়ভিত্তিক সংশ্লিষ্ট পাঠ্য বিষয়গুলোর আলোকেই ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হয়ে থাকে। সুতরাং সেভাবেই আপনাকে প্রস্তুতি নিতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু এইচএসসির সিলেবাস অনুসারেই নয়, বরং বইয়ের খুঁটিনাটি সব বিষয়ই পড়তে হবে। বাংলা: বিগত বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নে বিশেষ করে দেখা গেছে, গদ্য ও কবিতা অংশ থেকে বেশ কিছু প্রশ্ন প্রতিবার আসে। সেক্ষেত্রে গদ্যের মূল বিষয়, গদ্য লেখক পরিচিতি, তার সাহিত্যকর্ম, জীবনী ইত্যাদি বিষয় জানতে হবে। কবিতার ক্ষেত্রেও তাই। উপন্যাস ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ বা নাটক ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ থেকেও প্রশ্ন আসতে পারে। ব্যাকরণ অংশের জন্য ভাষা, বাংলা ভাষা, ব্যাকরণ, শব্দ, কারক, সমাস, সন্ধি, বিভক্তি, বচন, বাক্য সংকোচন, বাগধারা, উপসর্গ, অনুসর্গ বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর ভালো অনুশীলন দরকার। ইংরেজি: বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাগুলোতে ইংরেজির ক্ষেত্রে গ্রামার অংশে অধিক জোর দেয়া হয়। সেক্ষেত্রে Parts of speech, Article, Tense, Voice, Narration, Correction, Right form of verbs, Translation, Synonyms, Antonyms, Transformation of sentences, Joining sentence, Comprehension প্রভৃতি বিষয় ভালোভাবে পড়তে হবে। পাশাপাশি ইংরেজ কবি ও সাহিত্যিক, বিশেষ করে যাদের লেখা এইচএসসির সিলেবাসে রয়েছে তাদের জীবনও সাহিত্যকর্ম, লেখার বিষয়, উদ্ধৃতি ইত্যাদি খুঁটিনাটি বিষয়ও মনে রাখতে হবে। হিসাববিজ্ঞান: ব্যবসায় শিক্ষা শাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে হিসাববিজ্ঞান। হিসাববিজ্ঞানের প্রশ্ন সাধারণত মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর হয়। তাই এ বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে হলে হিসাববিজ্ঞানের প্রতিটি শাখার ওপর ভালো দখল দরকার হবে। মুনাফা ও মূলধন জাতীয় আয়-ব্যয়, সম্পত্তি, দায়, মালিকানা, হিসাববিজ্ঞানের বিভিন্ন নীতি, ঋণ, অবচয়, সঞ্চয় নীতি, অংশীদারী ক্রয়-বিক্রয় মূল্যনীতি, শেয়ার ইস্যু, অনুপাত প্রভৃতি বিষয়ের ওপর ধারণা থাকতে হবে। হিসাববিজ্ঞানে অঙ্ক থাকবে। সেগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে। এ জন্যে বাসায় অনুশীলনের বিকল্প নেই। ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ: ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ থেকেও ভর্তি পরীক্ষায় কিছু প্রশ্ন থাকে। এ বিষয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে হলে ব্যবসায়ের প্রকৃতি ও প্রকারভেদ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ব্যবস্থাপনার প্রকৃতি ও আওতা, ব্যাংকব্যবস্থা, মুদ্রাব্যবস্থা, বাণিজ্যিক ব্যাংক নীতিমালা ইত্যাদি বিষয় ভালোভাবে জানতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সুবিধার্থে বাজারে বিভিন্ন সহায়ক বই পাওয়া যায়। পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্রের ধরন জানার জন্য সেগুলো সহায়ক। তবে সঠিক উত্তরগুলো অন্য উত্স থেকেও যাচাই-বাছাই করে নিন। অনেক সময় ছাপার ভুল থাকে। আবারও বলছি, এসএসসি ও এইচএসসির মূল পাঠ্য বিষয় যদি ভালোভাবে পড়ে থাকেন, তাহলে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করা সম্ভব। কেননা এই পাঠ্যবইয়ের বাইরে থেকে ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণত প্রশ্ন কমই আসে।