মা-বাবার অবধারিত আদর মাখা শাসনের বাহিরের একটি জীবন বিশ্বদ্যািলয়ের হল জীবন। এখানে নেই সীমাবদ্ধ সময়ের ফ্রেমে জীবন বাঁধার ভয়। নেই বহু মতের মানুষের মিলের কমতি। আছে একান্ত কিছু প্রিয় মুখ-মুহূর্ত। আর আছে নিজের মতো করে আনন্দ-বেদনার খুনসুটি। যেগুলো হল জীবনের ফুয়েল হিসেবে কাজ করে। এমন কিছু মুহূর্ত নিয়ে কথা হচ্ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে।
সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জোবায়ের আহমেদ তার হল জীবনের স্মৃতি তুলে ধরেন এভবে, ‘হলের কক্ষটি একান্তই নিজের। যদিও একাধিক কক্ষসাথী থাকে। একই রুমে বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা থাকে। কখনো কোনো সমস্যা হয় না। এক সঙ্গে থাকতে-থাকতে একটা আন্তরিকতা চলে আসে। বড় ভাই, ছোট ভাই সবাই এক বন্ধু হয়ে যায়। কখনো-কখনো সম্পর্কটা গভীরে পৌঁছে যায়। তখন মনে হয় সবাই এক পরিবারের সদস্য।’
আরবী বিভাগের শিক্ষার্থী অহিদ জানালেন, প্রথমদিকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর যা হয় তাই ঘটেছিল তার জীবনে এই যেমন ঘোরাঘুরি, আড্ডা দেয়া তবে এখন আর তেমন হয় না। ক্লাস করে একাডেমিক কাজ, ক্যারিয়ার নিয়ে কাজ ইত্যাদি করে সময় পার হয় আর রাতে এসে খানিকটা সময় পড়াশোনা কখনবা গানশুনেই ঘুমিয়ে পড়ি।
সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অংকন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কিছু দিন পরেই হলে উঠি। শুরুতে মন কেমন যেন ছটফট করত। হলে একদম ভালো লাগত না। সারাক্ষণ ইচ্ছে হতো বাড়ি চলে যাই। আশায় থাকতাম কখন ছুটি হয়। যে কোনো ছুটি পেলেই বাসায় চলে যেতাম। এখন অবশ্য তেমনটা মনে হয় না। সবার সাথে ভালো সম্পর্ক হয়েছে। তাই আর কষ্ট মনে হয় না।
শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান বলেন, হলে যারা উঠেছে তাদের আরাধ্য থাকে কবে বেডে উঠতে পারবে। ফ্লোর বা বেড সর্বত্রই ছারপোকার রাজত্ব। সেই রাজত্বের দখল লড়াইয়ের আরেক নাম ছিল ‘বেড’ দখল। মানে সাড়ে ছয় ফিট বাই আড়াই ফিট/ হতে পারে তিন ফিটও - সেখানে জায়গা করে নেয়া। নিঃসন্দেহে সিনিয়রদের সাথে জুনিয়রা আজন্ম লড়াই করেও সেই এভারেস্টের ‘সুখ বিছানায়’ উঠতে পারবে না। তবে সিনিয়র জুনিয়রদের মাঝে সৌহার্দ্যতারও কমতি থাকে না।
সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আলতাফ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কিছুদিন পরেই হলে উঠি। শুরুতে মন কেমন যেন ছটফট করত। হলে একদম ভালো লাগত না। সারাক্ষণ ইচ্ছে হতো বাড়ি চলে যাই। আশায় থাকতাম কখন ছুটি হয়। যে কোনো ছুটি পেলেই বাসায় চলে যেতাম। এখন অবশ্য তেমনটা মনে হয় না। সবার সাথে ভালো সম্পর্ক হয়েছে। তাই আর কষ্ট মনে হয় না।
নিজের ক্যাম্পাসের প্রতি দারুণ একটা টান তৈরি হয়েছে। মানুষ যে জায়গাটিতে অনেকদিন থাকে, সে জায়গাটা তার কাছে এক সময় অনিবার্য হয়ে ওঠে। তাই ক্যাম্পাস তার কাছে এখন নিজের বাড়ির মতোই। মনের সাথে একেবারে মিশে গেছে। আর এরই মধ্যদিয়ে সে কখন যে রান্না-বান্নার মতো কঠিন একটা কাজও শিখে ফেলেছি, বুঝতেই পারিনি, বললেন নাজমুল হোসাইন।
আর এভাবেই কাটে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্বর্ণালী দিনগুলো। স্মৃতির পাতায় জমা পড়ে কিছু কলমের দাগ। সেই দাগ থেকে যায় চেতনাহীন না হওয়া পর্যন্ত। ভালোবাসা আর বন্ধুত্ব যেন চিরদিনের। যেন অমলিন।
