সুলতানী আমলে পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে হযরত খানজাহান আলী সুন্দরবনাঞ্চল এলাকায় ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করেন। কথিত আছে, তার নির্দেশে তারই সাথে আগত ৩৬০ জন আউলিয়া সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ করেন মসজিদ এবং প্রচার করেন ইসলাম ধর্ম। ধারণা করা হয়, সে সময়ে গলাচিপা সাগর উপকূলের সুন্দরবনাঞ্চলে নির্মাণ করা হয় গুরিন্দা মসজিদ।
গলাচিপা উপজেলা সদর থেকে ৮কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে রতনদী-তালতলী ইউনিয়নের গুরিন্দা খালের পাড়ে এই মসজিদ। গুরিন্দা খালের পাড়ে নির্মিত হয় বলে এর নামকরণ ‘গুরিন্দা মসজিদ’ করা হয় বলে সেখানকার লোকজনের অভিমত। প্রাচীন এই মসজিদটির গঠন ও স্থাপত্য সৌন্দর্য দেখে প্রতীয়মান হয়, এটি সুলতানী আমলে নির্মিত। এক গম্বুজবিশিষ্ট বর্গাকৃতির মূল মসজিদের পরিমাপ ৩৬১বর্গফুট এবং উচ্চতা ১৬ ফুট। উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বাংশে রয়েছে একই মাপের তিনটি খিলান দরজা।আভ্যন্তরীণ দেয়ালের গাত্রে রয়েছে ছোট কুলঙ্গি। এগুলো হয়তো ব্যবহূত হতো প্রদীপ ও ধর্মীয় বই-পুস্তক রাখার কাজে। এছাড়া এই মসজিদের পাশে কয়েক ফুট দক্ষিণে রয়েছে ছোট এক কুঠরি এক দালান। সেটি দেখে ধারণা করা হয় কোন পীর-আউলিয়ার মাজার হতে পারে। এ দুটি ভবনই চুন ও সুরকির আবরণে তৈরি। এখানে কোন শিলালিপি বা সময় নির্ধারণের কোন পা্রমাণ্য দলিল পাওয়া যায়নি। তবে গঠন কৌশল দেখে এবং ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী ধারণা করা হয় সুলতান বরবক শাহের রাজত্বকালে এই গুরিন্দা মসজিদ নির্মিত হয়। কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে, ওয়াজিল খান নামে একজন আরবীয় বণিক এদেশে আগমন করেন এবং পরে তিনি পীর-আউলিয়া হিসাবে ধর্ম প্রচার শুরু করেন। কথিত আছে ১৫ শতকের প্রথমার্ধে হযরত খানজাহান আলী সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে ইসলাম ধর্ম প্রচার ও মসজিদ নির্মাণ করেন। ওয়াজিল খান ছিলেন তার প্রেরিত একজন আউলিয়া। তিনি সাগর উপকূলে নির্মাণ করেন এই গুরিন্দা মসজিদ।১৫৮৪ খৃষ্টাব্দে ঘূর্ণিঝড়ে বাকলা চন্দ্রদ্বীপ বিশেষ করে পটুয়াখালী জেলার অধিকাংশ এলাকা বিরাণ হয়ে যায়। রাজা কন্দর্প নারায়ন বাধ্য হয়ে রাজ্যের রাজধানী স্থানান্তর করেন বাকলা থেকে ক্ষুদ্রকাঠীতে। প্রাকৃতিক ধ্বংসের পরই শুরু হয় এ অঞ্চলে মগ ও পর্তুগীজ দস্যুদের আক্রমণ। এ অবস্থায় চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের অধিকাংশ এলাকা বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চল জনশূন্য হয়ে পড়ে। এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী এলাকা ও জনপদ পরিণত হয় গভীর সুন্দরবনাঞ্চলে।১৬ শতকে এ অঞ্চল জনশূন্য হয়ে পড়লে গুরিন্দা মসজিদও অরণ্যে আবৃত হয়ে যায়।এই গুরিন্দা মসজিদের তদারককারী সেখানকার বয়োবৃদ্ধ রুস্তম আলী হাওলাদার জানান, তাদের সপ্তম পুরুষ আগে মামুনতক্তি হাওলাদার মুকুট রাজার আমলে এই মসজিদ নির্মাণ করেন। এর সমর্থনে কোন তথ্য প্রমাণ মেলেনি।
