মীর্জাগঞ্জের প্রাচীন কীর্তি মজিদবাড়িয়া শাহী মসজিদ

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৩, ১৯:৪৬
পটুয়াখালী জেলার মীর্জাগঞ্জ উপজেলার মজিদবাড়িয়া গ্রামে পঞ্চদশ শতাব্দীতে নির্মিত এক পুরাতন মসজিদ সুলতানী আমলের স্থাপত্যকীর্তি নিয়ে আজও সগৌরবে বিদ্যমান আছে। স্থানীয়ভাবে এই মসজিদ-ই-মজিদবাড়িয়া শাহী মসজিদ নামে পরিচিত। মীর্জাগঞ্জ উপজেলা সদরের ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এই মসজিদটি অবস্থিত। বাংলার স্বাধীন ইলিয়াস শাহী শাসনামলের শেষ দিকে নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহের পুত্র রুকুন উদ্দিন বারবক শাহের(১৪৫৯-১৪৭৬খ্রীঃ) শাসন আমলে খান-ই মোয়াজ্জম উজিয়াল খান ১৪৬৫ খ্রীষ্টাব্দে এই মসজিদ নির্মাণ করেন। এই মসজিদের গায়ে প্রাপ্ত একটি শিলালিপি থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়। উক্ত শিলালিপিটি বর্তমানে মসজিদ সংলগ্ন স্থানে নেই। তবে উক্ত শিলালিপি খানা বর্তমানে কলিকাতা এশিয়াটিক সোসাইটি যাদুঘরে রক্ষিত আছে। যা ১৮৬০ খ্রীষ্টাব্দে কমিশনার মি. রেলীর প্রদত্ত রিপোর্টে জানা যায়। মসজিদটির নামানুসারেই স্থানীয় গ্রাম ও ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে। মসজিদটি দৈর্ঘ্যে ৪৯ ফুট এবং প্রস্থে ৩৫ ফুট। এর সাড়ে ২১ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৮ ফুট প্রস্থ একটি বারান্দা পূর্ব দিকে অবস্থিত। মসজিদটির প্রধান কামরা বর্গাকারে নির্মিত এবং প্রত্যেকটি বাহু সাড়ে ২১ ফুট লম্বা। মসজিদের দেওয়ালগুলি প্রায় সাড়ে ৬ ফুট চওড়া। মসজিদের পূর্ব দিকে ৩টি এবং উত্তর দিকে ও দক্ষিণ দিকে ৪টি করে দরজা আছে। পশ্চিম দিকের দেওয়ালে ৩টি মেহরাব আছে। যার মাঝখানেরটি পার্শ্ববর্তী ২টার চেয়ে আকারে বড়। প্রধান কামরার উপরে আধা গোলাকৃতির একটি সুন্দর বিরাট গম্বুজ আছে। বরান্দার ছাদ চৌচালা ঘরের আকারে নির্মিত। মসজিদটির প্রধান কামরার ৪ কোণায় ৪টি এবং বারান্দার ২ কোণায় ২টি মিনার আছে। মসজিদটি বহুদিন ধরে পতিত অবস্থায় থাকার ফলে চারদিকে গজিয়ে ওঠা জঙ্গলে ঢাকা পড়ে। বৃটিশ আমলের শেষ দিকে সুন্দরবন এলাকার জঙ্গল পরিষ্কার করার সময় এই মসজিদটির সন্ধান পাওয়া যায়। একারণে দীর্ঘদিন যাবত্ স্থানীয় লোকদের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা ছিল যে, মসজিদটি মাটির নিচ থেকে অলৌকিকভাবে গজিয়ে উঠেছে। মসজিদ সংলগ্ন একটি বিরাট দীঘি আছে। ঐ দীঘিতে বাঁধানো ২টি ঘাট। এ দীঘিতে ওজু করে মুসুলি¬রা মসজিদে নামাজ আদায় করতেন। বর্তমানে মসজিদের কাছে ১টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। মসজিদ সংলগ্ন চত্বরে প্রতি বছর ওয়াজ মাহফিলে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান শরীক হন।