সেদিন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’-এ শ্লোগানে আন্দোলনের ঢেউ। বাংলা ভাষার দাবিতে ব্যাপকভাবে আন্দোলিত হয়েছিল তত্কালীন মহকুমা শহর পটুয়াখালী।। সে সময়ে এই এলাকার মানুষ শুধু পটুয়াখালীতেই নয় ঢাকায় অবস্থানরতরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেও পালন করে ঐতিহাসিক ভূমিকা। বায়ান্নের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা থেকে এখানে নিয়ে আসা ভাষা শহীদ সালামের রক্তমাখা জামা তুলে ধরা হয় এক জনসভায়। জনতা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। আন্দোলন তুঙ্গে পৌঁছে।। নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই এসকল কথা আজও রয়ে গেছে অজানা। স্মৃতি বিস্মৃত হয়ে যাচ্ছে ভাষা আন্দোলনে পটুয়াখালীর সেই গৌরবময় ইতিহাস।
সেসময় পটুয়াখালী ছিল বরিশাল জেলার অন্তর্গত একটি মহকুমা। ১৯৫১ সনে প্রতিষ্ঠিত হয় যুবলীগ।। ভাষা আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে এই সংগঠন। ঐসময় বরিশাল জেলা যুবলীগের সভাপতি হন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানার রামপুর গ্রামের আলী আশরাফ ও সম্পাদক হন গলাচিপা থানার বড় বাইশদিয়া গ্রামের আবদুল করিম মিয়া। একই সময় আবদুল কারম মিয়াকে সভাপতি ও কবি খোন্দকার খালেককে সম্পাদক করে গঠিত হয় ‘পটুয়াখালী মহকুমা ভাষা আন্দোলন কমিটি’। বর্তমান শহরের নতুন বাজার সদর রোডের পূর্ব পাশে কাদের হাওলাদারের বাসায় এক গোপন বৈঠকে গঠন করা হয় এ কমিটি। পরে এই কমিটির নাম পাল্টে নামকরণ করা হয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’। বরিশাল যুবলীগের সভাপতি আলী আশরাফ ছিলেন রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিয়দের একজন অবিসংবাদিত নেতা। সংগ্রাম পরিষদ বরিশাল জেলা কমিটির আহবায়ক ছিলেন গলাচিপা থানার ইছাদি গ্রামের আবুল হাসেম। । দু’জনেরই বাড়ি পটুয়াখালীতে হওয়ায় তারা বরিশালের সমতালে ভাষা আন্দোলনকে পটুয়াখালীতেও বেগবান করেন।
১৯৫২ সালের জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহের কোন একদিন কাদের হাওলাদারের বাসায় পুনরায় গোপন বৈঠক বসেন তারা। ঐ বৈঠকে যোগ দেন বরিশাল জেলা রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক আবুল হাসেম। কবি খোন্দকার খালেককে আহবায়ক ও জালাল উদ্দিন আহমেদকে যুগ্ম আহবায়ক করে গঠন করা হয় ‘পটুয়াখালী মহকুমা রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’। জীবিতকালে তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী ঐ কমিটিতে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন- আজাহার উদ্দিন, আবুল হোসেন আবু মিয়া, বীরেশ্বর বসু, শিক্ষক অতুল চন্দ দাস, ধ্রুবজ্যোতি দত্ত, এডভোকেট গোলাম আহাদ চৌধুরী, এটিএম ওবায়দুল্লাহ, মজিবর রহমান নয়া মিয়া, জয়নাল আবেদীন সিকদার, রাখাল ব্যানার্জী, শাহাদাত্ উল্লাহ, আবদুল খালেক, কাজল আহমেদ, দেবী দাস, এডভোকেট আবদুল মতলেব, শ্যামল চট্টোপাধ্যায়, দলিল উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
