বাউফলে জাতীয় রাজনীতির হালচাল

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৩, ১৯:৪৮
বাউফলের জাতীয় রাজনীতি মূলত পটুয়াখালী -২ আসনকে ঘিরে । বাউফল উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন ও পটুয়াখালী উপজেলার ২ টি ইউনিয়ন মোট ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে পটুয়াখালী -২ সংসদীয় আসন। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন এ বছরের শেষের দিকে । তারপরও প্রধান দু’ রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে সর্বত্র চলে আলোচনা-পর্যালোচনা । ’৭৯ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত নির্বাচনে দেখা যায়, এ আসনে আওয়ামী লীগ পাঁচবার, জাতীয় পার্টি একবার এবং বিএনপি প্রার্থী একবার জয় লাভ করেন। ২০০৮ এর নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ফারুক আহম্মদ তালুকদার বিএনপি’র সাবেক সংসদ সদস্য সহিদুল আলমের তীব্র বিরোধিতার মধ্যেও ষাট হাজার ভোট পান। এ আসনটি আগামী নির্বাচনে প্রধান দু’রাজনৈতিক দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চাবে আসনটি ধরে রাখতে আর বিএনপি চাবে আসনটি পুন:রুদ্ধার করতে । হুইপ আসম ফিরোজ এ আসন থেকে ৫ বার নির্বাচিত এমপি । ২০০১ সালের নির্বাচনের পূর্বে ফিরোজের সমকক্ষ তার দল কিম্বা বিরোধী দলে তেমন কোন যোগ্য প্রার্থী না আসায় জয়ের মালা তাকেই বার বার পরতে হয়েছে । এ আমলে হুইপ ফিরোজ বিভিন্ন কারণে এলাকায় সমালোচিত হয়ে উঠেছেন । তার মধ্যে দু’টি উল্লেখযোগ্য । এক ‘বাউফল-বগা ’ সড়ক সংস্কার, যা তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল । সম্ভবত এ সরকারের আমলে তা বাস্তবায়ন না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নীরব নিয়োগ বাণিজ্যের কারণে যোগ্য ও মেধাবীরা নিয়োগ না পাওয়ায় শিক্ষিত বাউফলের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে যা বাউফলের সর্বত্র আলোচিত ও সমালোচিত । হুইপ ফিরোজ উক্ত অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে স্বচ্ছ এবং একজন সত্ রাজনীতিবিদ হিসেবে দাবি করে বলেন, ‘আমি একজন সত্ রাজনীতিবিদ বলেই জনগণ আমাকে বারবার ভোট দিয়ে সংসদে পাঠায়।’ আগামী নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন চাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। এরা অনেকেই তরুণ, বিত্তশালী এবং এলাকায় সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব । এরা হলেন বঙ্গবন্ধুর এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহচর মরহুম সাবেক এমপি এ্যাডভোকেট আবদুল আজিজ খন্দকারের পুত্র বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট সামছুল হক রেজা । বাউফল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম আবদুল গফুর মিয়ার পুত্র বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান এসএম ফিরোজ আলম । স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রয় নেতা বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল । তবে মেয়র জুয়েল গত পৌর নির্বাচনে হুইপ সমর্থিত প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন । প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে হুইপ ফিরোজ বলেন, ‘দল যাকে মনোনয়ন দিবে তাতে আমার কোন আপত্তি থাকবে না, তবে আমাকে বাদ দিয়ে কাউকে দিলে আমাকে অন্তত জিজ্ঞাসা করবে’। অপরদিকে বিরোধী দল বিএনপিতে একমাত্র ইঞ্জিনিয়ার ফারুক ছাড়া আর কোন সম্ভাব্য প্রার্থীর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ । কারণ বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি সহিদুল আলম তালুকদার ২০০৮ এ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করার পর এলাকা ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে ওঠেন । অদ্যাবধি বাউফলে আসেননি । এমনকি তিনি বিএনপি’র জেলা, উপজেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির কোথাও স্থান পাননি । ফলে বাউফল বিএনপি’র সভাপতি, কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী কমিটির সদস্য এবং জেলা বিএনপি’ সিনিয়র সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ফারক আহম্মদ ছাড়া আর কোন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যায় না । সম্ভবত আগামী নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ার ফারুকের সাথে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর এ আসনে ভোটযুদ্ধ হবে। এ ব্যাপারে ইঞ্জিনিয়ার ফারুক বলেন, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপি প্রার্থী বিরাট ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করবে ।