সদ্য সমাপ্ত ২০১২-১৩ অর্থ বছরে টেকনাফ স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ে বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ কোটি ১৩ লাখ ৬১ হাজার ৫৪০ টাকা রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। সূত্র জানায়, সদ্য সমাপ্ত ২০১২-১৩ অর্থ বছরের জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত ১৭৪১টি বিল অফ এন্ট্রির মাধ্যমে ৬০ কোটি ৮৬ লাখ ৩৮ হাজার ৪৬০ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক গত অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা নিধারণ করা হয় ৬৫ কোটি টাকা। বছর শেষে এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ কোটি ১৩ লাখ ৬১ হাজার ৫৪০ টাকা কম আদায় হয়েছে। অপরদিকে গত অর্থ বছরে ৫৩০টি বিল অপ এক্সপোর্টের মাধ্যমে ১৫ কোটি ৭১ লাখ ৩৭ হাজার ৯১১ টাকার মালামাল রপ্তানি হয়েছে। তবে প্রতিবছর আমদানির তুলনায় রপ্তানি অনেকটা কম হতে চলছে। এদিকে টেকনাফ স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ে ধস দেখা দিয়েছে। হঠাত্ করে এভাবে রাজস্ব আদায় কমে যাওয়া সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলে। এ বন্দরের পণ্য আমদানিতে রাজস্ব বৃদ্ধি ও মালামাল রপ্তানিতে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের দৃষ্টি কামনা করছেন।
মিয়ানমার থেকে বন্দরে হিমায়িত মাছ, কাঠ, শুটকী, আচার, বড়ই, হলুদ, মরিচ, তেঁতুল, তৈরি পোশাক, ব্যাটারি, পিভিসি পাইপ, মুলি বাঁশ, গোলপাতা, বেঁত, বিভিন্ন প্রকার বিচি, জিরা, ধনিয়া, আদা, সেনেখা, সেন্ডেল, ছাতা, তুলা, গাম বুট, গরু-ছাগলের চামড়া, গরু, মহিষ, ছাগল, তরমুজ ইত্যাদি আমদানী হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে রড, সিমেন্ট, প্রসাধনী, অক্স পেনিস, এলমুনিয়াম, ওষুধ, চুল, গার্মেন্টস কাপড়, ছাতা, প্লাস্টিক, টিউব ওয়েল ইত্যাদি রপ্তানি করা হয়।
টেকনাফ স্থলবন্দর শুল্ক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, মিয়ানমারে সমস্যার প্রভাব সীমান্ত বাণিজ্যে পড়েছে। এ বন্দরে হিমায়িত মাছ থেকে অধিকাংশ রাজস্ব আদায় হত তা আমদানি হয়েছে কম। ফলে রাজস্ব আদায়ে প্রভাব পড়েছে। ইতিমধ্যে মিয়ানমারের সাথে জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সীমান্ত বাণিজ্যের পণ্য আমদানী-রপ্তানি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী বছর থেকে এর সুফল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি সীমান্ত বাণিজ্যকে গতিশীল করতে আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীদের আরো বেশী এগিয়ে আশার আহ্বান জানান।
