জাপানের রাজধানী টোকিও’তে এখন গ্রীষ্মের মাঝামাঝি। বছরের এই সময়টায় দিনের তাপমাত্রা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশিই থাকে। অন্যদিকে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কম হলেও সেটা কখনোই শীতের টোকিও’র ধারেকাছেও থাকে না। অথচ আবহাওয়ার এমনতর অবস্থানের মাঝেই সেদিন সাত সকালে টোকিও’র একটি অংশের অধিবাসীরা রাস্তার মাঝে তুষার জমে থাকতে দেখে রীতিমতো চমকে গিয়েছিলেন। একেতো এ ধরনের ব্যতিক্রমী তুষারপাত হলে যেখানে তাপমাত্রা বেশ কমে আসার কথা আবহাওয়া মোটেও তেমন ছিল না। তার উপর জমে থাকা তুষারের উপস্থিতিও ছিল স্রেফ একটি সড়ক জুড়ে। তবে দূর থেকে দেখতে হুবহু তুষারের মতো মনে হলেও আদতে শ্বেত-শুভ্র রূপ ধারণ করা এই সড়কটি যে তুষারে ঢাকা ছিল না সেটি অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝতে পারেন এলাকার মানুষেরা। মধ্য-গ্রীষ্মের তুষারপাতের চাইতেও বেশি বিস্ময় নিয়ে তারা আবিষ্কার করেন যে জমে থাকা তুষার ভেবে এতক্ষণ তারা যে ভুলটি করছিলেন সেটি আসলে সাবানের ফেনার কারণেই সৃষ্ট। কিন্তু তাই বলে এক রাতের মাঝে এত বড় একটা এলাকা জুড়ে সাবানের ফেনাই বা ছড়িয়ে দিল কে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যেয়েই স্থানীয় পুলিশ ও দমকল বাহিনীর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো আসল রহস্য। তারা জানালেন, পাশের বহুতল একটি ভবনের ১৩ তলায় অবস্থিত একটি অফিসের কোনো একজন কর্মী অজানা কারণে সিঙ্ক বেসিনে ৪০ লিটারের মতো সোপ পাউডার ফেলেছিলেন। আর সেই সোপ পাউডার পয়ঃনিষ্কাশনের লাইন হয়ে নিচের স্যুয়ারেজ চেম্বার থেকে ম্যানহোল গড়িয়ে বেরিয়ে আসে রাস্তায়। এভাবে সময় যত গড়াতে থাকে ততই স্যুয়ারেজ চেম্বারে প্রবাহিত পানির কারণে বাড়তে থাকে সাবানের ফেনা। একসময় তা ছড়িয়ে পড়ে ভবনের সামনের পুরো সড়কেও। সাবানের ফেনার এই বর্ণনা শুনে বিষয়টি কতটা গুরুতর তা হয়তো বোঝা মুশকিল। তবে রাস্তা থেকে সাবানের এই ফেনা সরানো যে কতটা কঠিন সেটা হাড়ে হাড়েই টের পেয়েছেন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করা সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা। এদিকে যে অফিস থেকে এই রহস্যময় তুষার বা সাবানের ফেনা কাণ্ডের সূত্রপাত সেই অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, রাস্তায় ছড়িয়ে পড়া সাবানের ফেনায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক কোনো উপাদান ছিল না!
