নগরীর বহুল আলোচিত শেফা ডায়াগনস্টিক ল্যাব বন্ধের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নির্দেশ দেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঐ ল্যাবের মালিক জিয়াউল হক শাহীন ও তার সহযোগীদের নির্যাতনে গত ২১ জুন চিকিত্সক আরিফুর রহমানের মৃত্যু হয়। মালিক পক্ষের হুমকির মুখে নিহত চিকিত্সকের পরিবার মুন্সীগঞ্জ থেকে বরিশালে এসে মামলা করতে পারেনি বলে চিকিত্সক নেতারা অভিযোগ করেন। ডা. আরিফের মৃত্যুর পর তা অপমৃত্যু হিসাবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে ল্যাব মালিক শাহীন ও কোতোয়ালী থানা পুলিশ। ময়না তদন্তে হত্যার আলামত পাওয়ার পর এখানকার চিকিত্সকদের সংগঠন বিএমএ এবং স্বাচিপ যৌথভাবে আন্দোলনে নামে। ঘটনার পর ল্যাব বন্ধ করে দিয়ে এক সপ্তাহ পালিয়ে ছিল শাহীন। পরে থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে পুনরায় ল্যাব খুলে ব্যবসা শুরু করে অভিযুক্ত শাহীন ও তার সহযোগীরা। এতে চিকিত্সকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়। তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রবিবার ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বিভাগীয় কমিশনার, স্বাস্থ্য পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিকিত্সক আরিফ হত্যার বিচার ও চিকিত্সকদের নিরাপত্তা প্রদানের দাবি জানান।
গত সোমবার বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ও সিভিল সার্জন যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ঐ ল্যাব সিলগালা করার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু ল্যাব বন্ধ থাকার অজুহাত দেখিয়ে ডেপুটি সিভিল সার্জন হাসান মাহমুদ সেখান থেকে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ফিরে আসেন। চিকিত্সক নেতারা অভিযোগ করেন, অভিযানের আগেই ডা. হাসান মাহমুদ ল্যাব মালিককে অভিযানের বিষয়টি অবহিত করেন। সিভিল সার্জনের নির্দেশে বিকেল ৪টার দিকে অভিযানে নামলেও তিনি সেই আলোচিত ডায়াগনস্টিক ল্যাবে না গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে বিভিন্ন ল্যাব ঘুরে জরিমানা আদায় করেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে ম্যাজিস্ট্রেট ঐ চিকিত্সককে শেফা ল্যাবে যেতে বাধ্য করলেও তিনি ল্যাব বন্ধ থাকার অজুহাতে সিলগালা করা যাবে না বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানিয়ে সেখান থেকে ফিরে আসেন। শেফা ডায়াগনস্টিক ল্যাবের সাথে অভিযান পরিচালনাকারী ডেপুটি সিভিল সার্জন হাসান মাহমুদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে চিকিত্সক নেতারা অভিযোগ করেন। জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলম ইত্তেফাককে জানান, অভিযান পরিচালনার শুরুতেই সিভিল সার্জনের দফতর থেকে এ ব্যাপারে নিরুত্সাহিত করা হয়। তবুও তিনি ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন।
এদিকে সাগরদীর স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অভিযান পরিচালনার মাত্র ৩০ মিনিট ঐ ডায়াগনস্টিক ল্যাবটি বন্ধ ছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালত ফিরে আসার পর পুনরায় শাহীন সেখানে উপস্থিত হয়ে শেফা ডায়াগনস্টিক চালু করেন।
