বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্যে স্বতন্ত্র পে-স্কেল

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৩, ২১:৫৪
শর্ত সাপেক্ষে হলেও স্বতন্ত্র পে-স্কেল দেবার আশ্বাস সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষকদের কর্মক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগাতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। আমাদের পার্শ্ববর্তী অনেক দেশেই যেখানে শিক্ষকদের আলাদা বেতন কাঠামো রয়েছে সেখানে আমাদের দেশে সরকারপ্রধানদের ইচ্ছা থাকলেও তা দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বাস্তবায়িত হয়নি। যে দেশ ও জাতি তার শিক্ষা ও শিক্ষাগুরুকে যত গুরুত্ব দিয়েছে সে দেশ তত দ্রুত উন্নতি লাভ করেছে। শিক্ষাকে এরকম আলাদা গুরুত্ব দেওয়ার নজির এশিয়ার অনেক দেশেই রয়েছে। আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শুধু বেতনের ওপর নির্ভর করতে হয়। জীবনযাপনের খরচ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় বেতনের এই অর্থ দিয়ে সমাজের এই আলোকিত মানুষদের সামাজিক অবস্থানটুকু ধরে রাখা অনেক ক্ষেত্রেই অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে কর্মক্ষেত্রে অনেকক্ষেত্রেই হতাশায় ভুগতে হয়। মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা অল্প বেতনের ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পেরে দিন দিন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন শিক্ষকতা পেশার প্রতি। তাছাড়া দেশের সার্বিক সামাজিক অবক্ষয়, অর্থভিত্তিক সামাজিক মূল্যায়ন/অবস্থান এবং নিরীহ শিক্ষকদের ওপর ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলে সম্মানটুকুই যাঁদের সম্বল তাঁরা আজ হয়ে পড়েছেন কোণঠাসা। চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে অনেকের মধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে হতাশা। এ অবস্থায় বিদেশে গিয়ে আর দেশে ফিরছেন না অনেকেই। দেশে থেকেও অনেকে আবার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্টটাইম শিক্ষকতা করছেন, কেউবা অন্য উপায়ে অর্থ উপার্জনের চেষ্টাও করছেন। সবমিলিয়ে বলতে গেলে দেশের এই মহান পেশাটি ক্রমান্বয়ে হয়ে পড়ছে মেধাবীবিমুখ যা দেশের উচ্চশিক্ষার জন্য একটি অশনি সংকেত। শোনা যাচ্ছে দু’এক মাসের মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল ঘোষিত হবে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনস্কেল কত হবে তা এখনও জানা যায়নি। তবে বেতন যাই হোক আয়কর দিতে হবে শিক্ষকদেরই। আয়করের বিষয়টি মাথায় রেখে এই স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো যাতে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় বা আন্তর্জাতিক মানের হয় সরকারের সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে পিএইচডিসহ একজন লেকচারারের বেতন হওয়া উচিত কমপক্ষে ৭০,০০০/-(সত্তর হাজার টাকা) এবং শর্ত থাকতে পারে যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার নিয়োগের ক্ষেত্রে মানসম্পন্ন পিএইচডি আবশ্যক। পাশাপাশি ইউজিসিকে আরো শক্তিশালী করে এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জবাবদিহিতা এবং কর্মক্ষেত্রে অবদানের ওপর ভিত্তি করে পদোন্নয়ন ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পরিশেষে, দেশের শিক্ষা ও শিক্ষকদের গুরুত্ব দিয়ে আলাদাভাবে কিছু করার সরকারের এ প্রয়াস দেশের উচ্চশিক্ষার মানউন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। ময়মনসিংহ